রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং এলাকার একটি আলিশান তিনতলা বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মদের আসর পরিচালনার অভিযোগে ৮৫ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানকালে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। বিলাসবহুল এই আয়োজনে বিভিন্ন বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উপস্থিতি পুরো ঘটনাটিকে রহস্যের আবর্তে ফেলে দিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবিতে তালিকাভুক্ত থাকলেও আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট কিংবা বার পরিচালনার কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। বাড়িটির মালিক একজন অতিরিক্ত ডিআইজি হলেও, নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখানে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলত। জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হলেও, মাসে প্রায় বিশটিরও বেশি ডিজে পার্টির আড়ালে সেখানে নিয়মিত মাদক ও মদের রমরমা আসর বসত। প্রতিটি আয়োজনে রুমপ্রতি অতিরিক্ত দর্শনার্থী ও নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো। দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা এসব জমকালো পার্টির একেকটিতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হতো বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে বাড়িটিতে আকস্মিক অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন মহল থেকে তদবিরের চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা উপেক্ষা করে অভিযান সফল করে। ঘটনাস্থল থেকে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারীকে আটক করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) বসিয়ে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। পুরুষদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা এবং নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় ও কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা গোপন বৈঠক ছিল কি না, তা নিয়ে এখন চলছে গভীর বিশ্লেষণ। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, নিছক আনন্দ-ফুর্তি নয়, বরং বিতর্কিত বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তাদের এই গোপন জমায়েতের পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অভিযানের সময় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। আটককৃতদের মধ্যে একাধিক স্বনামধন্য করপোরেট কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সাররা রয়েছেন। এদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার এই বিশাল সম্পত্তি ও বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস নিয়েও জোরালো তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
