অভিনয়দক্ষতা দিয়ে যেমন অনুরাগীদের মন জয় করেছেন, তেমনই তাঁর ফিটনেসও প্রশংসা পায় তারকা মহলে। পেশিবহুল, সুঠাম চেহারা ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবরকোন্ডাকে। তাঁর ফিটনেস দেখে অনেকেই প্রশ্ন করেন যে তারকা কী এমন ব্যায়াম করেন বা ডায়েটে থাকেন যে, সব সময়েই তাঁকে এত তরতাজা দেখায়। অভিনেতা উত্তরে জানিয়েছেন, নিয়ম করে তাবাতা অভ্যাস করেন তিনি। এমন এক ব্যায়াম, যা মাত্র ৪ মিনিট করলেই এক ঘণ্টা কার্ডিয়ো করার মতো উপকার হয়। তবে ওই ৪ মিনিটেই যা ক্লান্তি আসে, তা বলার নয়। এমনকি, ব্যায়ামটি করার সময়ে প্রশিক্ষকের উপর রাগও হয় তাঁর।
এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁর প্রশিক্ষক ধরেবেঁধে তাবাতা অভ্যাস করান তাঁকে। ব্যায়ামটির পদ্ধতি দেখতে যতটা সহজ লাগে, ততটা নয় মোটেও। এমন কঠিন ও পরিশ্রমের ব্যায়াম, যা মাত্র কয়েক মিনিট করার পরেই হাঁপ ধরে যায়। তীব্র ক্লান্তির কারণে প্রশিক্ষকের উপর রাগও হয় অভিনেতার। তবে শুধু বিজয় দেবরকোন্ডা নন, বলিউডের অনেক তারকাই ফিট থাকতে তাবাতা অভ্যাস করছেন।
কী এই তাবাতা ব্যায়াম?
এক ধরনের হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং। ১৯৯০-এর দশকে টোকিয়োর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফিটনেস অ্যান্ড স্পোর্টসের গবেষক ইজ়ুমি তাবাতা এবং তাঁর সহকারীরা এই বিশেষ ব্যায়ামের পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেছিলেন। ব্যায়ামের পদ্ধতি খুব কঠিন নয়, তবে করতে হয় নিয়ম মেনে ও দ্রুত। তাতেই পরিশ্রম হয় বেশি। ২০ সেকেন্ড টানা করে যেতে হয় তাবাতা, তার পর ১০ সেকেন্ডের বিশ্রাম নিয়ে আবার টানা ২০ সেকেন্ড করতে হয় ব্যায়ামটি। ২০ সেকেন্ড করে মোট ৭-৮ সেটে ব্যায়ামটি করতে হয় না থেমে। হাত-পা, পেট, শরীরের নিম্নাংশের ব্যায়াম হয় তাবাতায়। এটি করলে যেমন দ্রুত ওজন ঝরে, তেমনই মাত্র ৫-১০ মিনিট তাবাতা করার পর সারাদিন ধরে ক্যালোরি ঝরতে থাকে। ফিটনেট প্রশিক্ষকেরা বলেন, মাত্র ৪ মিনিটের একটি তাবাতা সেশন ১ ঘণ্টার সাধারণ কার্ডিয়ো ব্যায়ামের চেয়েও কার্যকর হতে পারে।
তাবাতা শুরু করতে হয় স্কোয়াট দিয়ে। বডি ওয়েট স্কোয়াট করে, তার পর জাম্পিং স্কোয়াট করতে হয়, তার পর একে একে পুশ-আপ, বার্পি, সিট-আপ সেরে আবারও ২০ সেকেন্ড করে স্কোয়াট এবং পুশ-আপ করতে হয়। নি এক্সারসাইজ় ও মাউন্টেন ক্লাইম্বিংও করা যায় পর পর। শেষে করতে হয় প্ল্যাঙ্ক বা হাই-প্ল্যাঙ্ক। ২০ সেকেন্ডের মধ্যে সবক’টি দ্রুত শেষ করে তার পর ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবারও শুরু থেকে করতে হয়। এই পরিশ্রমের কারণেই তাবাতা কিছুক্ষণ করলেই হাঁপ ধরে যায়, ঘাম ঝরতে থাকে এবং ক্যালোরিও দ্রুত পুড়তে থাকে।
কারা করবেন না?
প্রশিক্ষকের পরামর্শ তাবাতা নিয়েই করতে হয়। হার্টের অসুখ থাকলে, শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের রোগ থাকলে, হাঁপানি থাকলে এই ব্যায়াম করা যায় না।
রক্তচাপের ওষুধ খেলে বা ভার্টিগো থাকলেও তাবাতা করা অনুচিত।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাবাতার মতো হাই-ইনটেনসিটি ব্যায়াম করতে নিষেধই করা হয়।
