যশোর অফিস : যশোরের অভয়নগরে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়া, যৌতুক নয় বরং ঋণের কিস্তির টাকা নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে ওই স্ত্রীকে বাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী তাজমা বেগম (২৬)।
এ ঘটনায় স্বামী আব্দুল্লাহ ফকির, তাঁর ভাই ফয়সাল ও সতিন খাদিজা বেগমকে অভিযুক্ত করে অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাজমা।
অভিযোগে তাজমা বেগম উল্লেখ করেন,প্রায় সাত বছর আগে আব্দুল্লাহ ফকিরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তাসলিমা নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর স্বামী নিয়মিত কাজকর্ম করেন না এবং বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে তাঁকে নির্যাতন করা হয়। স্বামী তাঁর মাধ্যমে ঋণ তুলে কিস্তির টাকা পরিশোধ না করেও টালবাহানা করেন। পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণও ঠিকমতো দেন না।
তাজমার অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে আব্দুল্লাহ ফকির খাদিজা বেগমকে বিয়ে করেন। দেড় মাস আগে তাঁকে বাড়িতে তুলে নিলেও বিষয়টি তাজমাকে জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভয়নগরের হিদিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে যান তিনি। সেখানে খাদিজাকে দেখতে পেয়ে এ বিষয়ে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে স্বামী, তাঁর ভাই ও সতিন মিলে তাঁকে মারধর করেন। পরে স্বামী তাঁকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তাজমা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুল্লাহ তাঁকে চলে যেতে বলেন এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও খাদিজাকে তালাক দিয়ে পরে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এরপর থেকে স্বামী তাঁর ও মেয়ের কোনো খোঁজখবর নেননি। আবার স্বামীর বাড়িতে গেলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
