বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতামূলক আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছে আইএমএফ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আজ সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক দিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আইএমএফের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আজকের বৈঠকে তারই ধারাবাহিকতায় সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইএমএফের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আইএমএফের সুনির্দিষ্ট কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক এবং বাংলাদেশও অনেক বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। ইতোমধ্যে অনেক সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আগামী কয়েক মাস ধরে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি ও শর্তের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ঋণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকাই স্বাভাবিক। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা পারস্পরিক আলোচনা ও ধৈর্যের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ অন্য সব বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্ণ আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক কৌশল ও রূপরেখা রয়েছে বলেই আজ আলোচনা এত দূর এগিয়েছে। সবার সহযোগিতায় দেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১২ অক্টোবর থেকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শুরু হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই বার্ষিক সভা আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতিনির্ধারকরা অংশ নিচ্ছেন।
