কেন কান্নায় ভেঙে পড়লেন হরমনপ্রীত কৌর?ছবি: স্ক্রিনশট
Published on
:
2 min read
দীর্ঘ ১০ ম্যাচে একটিও অর্ধশতরান নেই। এশিয়া কাপ থেকে এশিয়ান গেমস— ব্যাট হাতে লড়াই করছিলেন হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur)। অবশেষে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪১ বলে অপরাজিত ৯১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। কিন্তু ব্যাটে রান ফেরার স্বস্তি যেন বাঁধ ভাঙল আবেগেরও। ইনিংসের বিরতিতে সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার। কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না ৩৭ বছরের হরমনপ্রীত। তাঁর চোখের জলেই স্পষ্ট, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর কাছে কতটা আবেগের।
অধিনায়কত্বের চাপ নেই, ব্যাটিং উপভোগ করেই প্রত্যাবর্তন
জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হরমনপ্রীতির ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। মাঠের চার দিকে বড় শট খেলে বুঝিয়ে দেন, পুরনো ছন্দে ফেরার জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংসের বিরতিতে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আর আবেগ সামলাতে পারেননি। কথা বলতে বলতেই চোখে জল চলে আসে তাঁর। হরমনপ্রীত বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আমি শুধু নিজের ব্যাটিং উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। আজ অনেকটা সময় ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছি। মাঠে নেমে সত্যিই খুব আনন্দ পেয়েছি।’
চলতি মাসের শুরুতেই সব ধরনের ক্রিকেটে ভারতের অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন হরমনপ্রীত। তাঁর মতে, দায়িত্ব থেকে সরে আসায় চাপ অনেকটাই কমেছে। এখন নিজের খেলায় মন দিতে চান তিনি। হরমন বলেন, ‘এখন আর কোনও চাপ আছে বলে মনে হয় না। মাঠে নেমে নিজের খেলাটা উপভোগ করাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
রমনের কথা বলতে গিয়েই ভেঙে পড়লেন হরমন
হরমনপ্রীতির আবেগের নেপথ্যে ছিল কঠিন সময়ে পাশে পাওয়া মানুষদের অবদান। ভারতের মহিলা দলের প্রাক্তন কোচ ডব্লিউ ভি রমনের কথা বলতে গিয়েই আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রচারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রমনও। তাঁর পরামর্শ যে কঠিন সময়ে হরমনপ্রীতকে ভরসা জুগিয়েছিল, তা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটার। হরমন বলেন, ‘আমাকে কোচ বলেছিলেন, এ বার তুমি নিজের মতো করে খেলো, যা করতে চাও করো। আমি ঠিক সেটাই করতে চেয়েছিলাম। নিজের খেলাটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। ওই কথাগুলোর জন্য ওঁকে ধন্যবাদ।’ এশিয়ান গেমসের পর নেটে ব্যাটিং নিয়ে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন হরমনপ্রীত। তাঁকে সাহায্য করেছেন ব্যাটিং কোচ হিমাংশু চাওলা। তাঁর অবদানের কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন হরমন। বলেন, ‘হিমাংশু ভাইয়া আমার ব্যাটিং নিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। আজ আমি যে ভাবে ব্যাট করেছি, তার কৃতিত্ব ওঁরও প্রাপ্য।’
Harmanpreet Kaur crying during an interview 😭 https://t.co/DSxrhzI8PP
— • 𝒙 (@nodle_hair) October 20, 2026
৯১ রানে ফিরল আত্মবিশ্বাস
ইনিংসের শুরুতেই একটি চার মেরে পিচ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। বল ব্যাটে ভালো ভাবে আসছে বুঝতে পেরে আত্মবিশ্বাস পান তিনি। তার পর আর পিছনে ফিরে তাকাননি। তাঁর দাবি, ‘দ্বিতীয় বলেই চার মেরেছিলাম। তখনই বুঝতে পারি, পিচটা ভালো। বল ব্যাটে সুন্দর ভাবে আসছিল। ওই শটটা খেলার পর অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম।’
অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর এটাই হরমনপ্রীতির প্রথম অর্ধশতরান। তাঁর অপরাজিত ৯১ রান মহিলা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার নম্বর বা তার নীচে ব্যাট করতে নেমে কোনও ভারতীয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। এই তালিকায় শীর্ষেও রয়েছেন হরমনপ্রীত। ২০১৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার নম্বরে নেমে ১০৩ রান করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্যাটে বড় রান ফিরেছে। কিন্তু ৯১ রানের ইনিংসের চেয়েও বেশি করে আলোচনায় হরমনপ্রীতির চোখের জল। সাক্ষাৎকারে কেঁদে ফেললেন, কৃতজ্ঞতা জানালেন পাশে থাকা মানুষদের— তাঁর আবেগ বুঝিয়ে দিল, এই প্রত্যাবর্তন শুধুই রান পাওয়ার নয়, কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের উপর বিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও।