আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা গত ১৪ অক্টোবর থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। উল্লেখ্য, যন্ত মন্তর-কে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি আগেই বাতিল (ডিনোটিফাই) করা হয়েছিল।
সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও মুখপাত্র সৌরভ দাস গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। যন্তর মন্তর-কে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি বাতিলের প্রতিবাদে সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ান। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই কাজের ফলে তাঁরা ১০ অক্টোবর আটক হওয়ার পর যে ‘শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা’ (পিস বন্ড) দিয়েছিলেন, তা লঙ্ঘন করেছেন।
১৪ অক্টোবর এই দুই সিজেপি নেতা-কে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে, আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সোমবার এই হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়।
সিজেপি-র অভিযোগ, এই দুই নেতার মুক্তি বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
বুধবার উচ্চ আদালত এই আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে এবং ‘মুচলেকা লঙ্ঘনের’ বিষয়টি তুলে ধরে। আদালত ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর প্রসঙ্গও উল্লেখ করে (যদিও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম নেয়নি) যেখানে বিক্ষোভ হিংস্র রূপ নিয়েছিল।
আদালত মন্তব্য করে, "আপনারা (বিক্ষোভের) সামনের সারিতে রয়েছেন। যখন আপনারা ব্যারিকেড ভাঙেন, তখন অন্যদেরও তা অনুসরণ করার সম্ভাবনা থাকে। এমন অনেকে থাকতে পারেন যারা আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।" আদালত আরও যোগ করে, "আমরা আমাদের দেশের বাইরে এমনটা ঘটতে দেখেছি। যা ছাত্র বিক্ষোভ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ ও বাড়ি পোড়ানোর মতো ঘটনায় রূপ নিয়েছিল।"
বিচারপতিদের বেঞ্চ আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বয়স জানতে চায়। তাদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ৩১ বছর। এটা জানার পর আদালত মন্তব্য করে যে, তারা ‘জেন জি’ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত নন। এছাড়া, তাদের বিক্ষোভের কারণ নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। ‘সিজেপি’ জুন ও জুলাই মাসে নিট পরীক্ষা-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। বর্তমানে এই সংগঠন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফাভাবে কাজ করছেন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, "মিলেনিয়াল প্রজন্মের বয়স কত? আগের আন্দোলনটি ছিল ছাত্র বিক্ষোভ, যেখানে শিক্ষার্থীরা ছিল। কিন্তু এখনকার কারণটি ভিন্ন। মানুষ একই রয়ে গিয়েছে, তবে আন্দোলনের কারণ বদলেছে।"
