আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, এমন ইচ্ছে শুনেই খুনেই মামলায় দোষী সাব্যস্তের সাজার উপর স্থগিতাদেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের। পাশাপাশি, তাঁকে জামিনও দেওয়া হয়েছে কোর্টের তরফে। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।
বিচারপতি সিদ্ধার্থ এবং বিচারপতি বিনয় কুমার দ্বিবেদীর ডিভিশন বেঞ্চ নন্দলাল রাই ওরফে বাবলু রাইয়ের দায়ের করা একটি ফৌজদারি আপিলের শুনানির পরই সম্প্রতি এই আদেশ দিয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালে বারাণসীর সিগ্রা থানা এলাকায় রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী প্রমোদ কুমার নিগমকে হত্যা মামলায় বাবলুর নাম উঠে আসে। এরপর ২০২৫ সালে বাবলুকে দোষী সাব্যস্ত করে বারাণসী সেশনস কোর্ট। অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া মুখতার আনসারির অনুগামী হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, সামান্য বিবাদের জেরেই তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটনা।
শুনানিতে হাইকোর্ট উল্লেখ করে যে, বাবলু দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিজেপি কর্মী ছিলেন। আদালতের মন্তব্য "একজন সাধারণ মানুষের জীবিকা অর্জনের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যক্তির সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকা উচিত, যাতে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান।"
এই প্রসঙ্গে হাইকোর্ট গত ৫ অক্টোবর আফজল আনসারি বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কথা উল্লেখ করে। শীর্ষ আদালত সেক্ষেত্রে বলেছিল, জনপ্রতিনিধিদের তাঁদের এলাকার জনগণের প্রতি বিশেষ দায়িবদ্ধতা রয়েছে। সাজার ওপর স্থগিতাদেশ না দিলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
অন্যদিকে, শুনানিতে অভিযুক্ত বাবলুর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, খুনের মামলায় মূল এফআইআরে বাবলুর নাম ছিল না। এফআইআর দায়ের করার প্রায় ১৭ দিন পর কেবল সন্দেহ ও অনুমানের ভিত্তিতেই তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়। সব পক্ষের বক্তব্য ও মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষমেশ হাইকোর্ট আপিল বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত তাঁর সাজা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
