আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ১৫ অক্টোবর ক্রীড়া ফেডারেশনগুলির সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। আবার, ওই একই দিনে এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী অ্যাথলিটদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্রের খবর, এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় অন্তত ৯টি ফেডারেশনকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ক্রীড়া মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলিকে বৈঠকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভারতের একাধিক বিভাগের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিপুল সংখ্যক অ্যাথলিটকে পাঠানোর পরও পদক জয়ের নিরিখে প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং প্রস্তুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষ করে যে যে ক্রীড়াক্ষেত্র কেন্দ্রের কাছ থেকে বিপুল আর্থিক সহায়তা পেয়েছে তাদের ফলাফল খতিয়ে দেখতে চাইছে মন্ত্রক। এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জাপানে ২০ সদস্যের ভারতীয় ব্যাডমিন্টন দলকে নাগোয়া টোকিউ নামে একটি পাঁচতারা হোটেলে রাখা হয়েছিল।
সেখানে প্রতি রাতের ঘরভাড়া ছিল প্রায় ১৩,৭২৯ টাকা। অন্যদিকে, একাধিক দেশের অ্যাথলিট এবং ভারতের অন্যান্য বিভাগের অনেকে এশিয়ান গেমসের অ্যাথলিট ভিলেজ কিংবা পোর্ত মেসে বন্দরে নোঙর করে থাকা কোস্টা সেরেনা ক্রুজ জাহাজে ছিলেন।
ব্যাডমিন্টনের পাশাপাশি মীরাবাই চানু এবং তাঁর কোচও ওই হোটেলে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, হকি ও শুটিংয়ের মতো খেলাগুলির অ্যাথলিটদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এশিয়ান গেমস শুরুর এক দিন আগে ভারতীয় দলের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব জানিয়েছিলেন, অ্যাথলিটদের আরাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যতটা প্রয়োজন, ততটাই খরচ করার অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রক।
কিন্তু এত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ব্যাডমিন্টন দল প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০ সদস্যের দল শেষ পর্যন্ত পুরুষদের দলগত বিভাগে একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে ফিরেছে।
ভারতীয় মহিলা ডাবলস জুটিও এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা চলাকালীন যাতায়াত এবং ম্যাচের সূচি নিয়েও কিছু সমস্যা হয়েছিল।
ইচিনোমিয়ার ভেন্যুতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুবিধার পাশাপাশি পিভি সিন্ধুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=CcviVJ8pZrhnzdBj
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের এক সূত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা এমন অ্যাথলিটদের পাঠাতে চাইনি, যাঁরা পর্যটকের মতো ঘুরে এসে সরকারি চাকরি পাবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল পদকজয়ীদের পাঠানো। যে খেলাগুলিতে ভারত সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে এবং অলিম্পিকের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যেগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, সেখান থেকে প্রত্যাশিত ফল না এলে জবাবদিহি করতে হবে।’
