সরাইলে ব্যবসায়ীকে আ’লীগ সাজিয়ে গ্রেফতার, ওসি বললেন আদালতে প্রমাণ করে আসুক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে কামাল পারভেজ নামে এক ব্যবসায়ীকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা সাজিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে একটি কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্র সফল করতে তৈরি করা হয়েছে জাল কমিটির কাগজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাজার এলাকা থেকে কামাল পারভেজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে জাল কমিটির কাগজের সূত্র ধরে তাকে পাকশিমুল ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি দাবি করে মামলার আসামি করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে পত্রপত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে কামাল পারভেজের পরিবারের অভিযোগ একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন কামাল পারভেজ। এ নিয়ে তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা আক্ষেপ করে বলেন, আমার স্বামীকে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ নিয়ে আমি নানান জায়গায় প্রতিকার পেতে গেলেও সুফল আসেনি।
কুচক্রী মহলের উদ্দেশ্য কি সে-ই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে ও তার স্ত্রীর ডিভোর্স হয়ে গেছে আরও আগেই। এরপর থেকেই স্থানীয় একটি মহল আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি চাপ প্রদর্শন করে আসছিলো। হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ছেলের নামে তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে দিয়ে করানো হয় ধর্ষণ মামলা। মিথ্যে সে-ই মামলায় ছেলে কারাবরণ করে জামিনে আসার পর আজ আবার আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না এবং সে কোনো পদেও নেই।
শিরিন সুলতানা আরও বলেন, আমার স্বামী যদি আওয়ামী লীগ করে থাকে অন্তত একটি ভিডিও দেখান। তাহলে সকল অপরাধ শিকার করে আমরা শাস্তি মাথা পেতে নিব।
এদিকে পুলিশের বক্তব্য ও পত্রপত্রিকার সংবাদের তথ্য মতে কামাল পারভেজকে ২ নং পাকশিমুল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি দাবি করা হলেও প্রকৃত অর্থের সে-ই দাবির কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের হাতে আসা পাকশিমুল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কমিটির কাগজপত্র ঘেটে দেখা যায় সেখানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন মোঃ সিরাজ মিয়া। সভাপতি পদ ত দূরে থাক অন্যান্য পদের কোথাও নেই কামাল পারভেজের নাম।
বিষয়টি আরও গভীরে যাচাই করতে যোগাযোগ করা হয় পাকশিমুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, কামাল পারভেজ আওয়ামী লীগের কোনো সক্রিয় কর্মী বা পদধারী নেতা না। যে কাউন্সিল কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ ভূয়া। সেখানে এমন কোনো কাউন্সিলই হয়নি। বড়ইছড়া আওয়ামীলীগের যে কমিটি আমরা অনুমোদন দিয়েছি সেটির সভাপতি মোঃ সিরাজ মিয়া। কমিটির কোথাও কামাল পারভেজ নেই।
তবে কামাল পারভেজ গ্রেফতারের পর পরিবারের অভিযোগ ও কমিটির প্রকৃত কাগজপত্র ঘেটে বিষয়টি সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াকে অবগত করে স্থানীয় এক সাংবাদিক বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন কামাল পারভেজ আওয়ামী লীগের নেতা এর সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।
কমিটির কাগজপত্র জাল এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি মিথ্যা হলে সে (কামাল পারভেজ) আদালতে প্রমাণ করে আসুক।
এদিকে কামাল পারভেজ গ্রেফতার নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরেছে। কাদের ইন্ধনে একজন ব্যবসায়ীকে বলির পাঠা করা হলো সে-ই প্রশ্ন এখন জনতার মুখে মুখে।
The post সরাইলে ব্যবসায়ীকে আ’লীগ সাজিয়ে গ্রেফতার, ওসি বললেন আদালতে প্রমাণ করে আসুক appeared first on Rising Cumilla.
