আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল বারাসতের নপাড়া মা সারদা রোডের বাসিন্দা বুবাই পালের (৪৭)। পেশায় তিনি ছিলেন এক কসমেটিক্সের দোকানের মালিক।
সপ্তমীর রাতে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে গত ২০ অক্টোবর রাতে টুমলিংয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে এখন দিশেহারা স্ত্রী জয়িতা পাল। সংসার সামলানোর পাশাপাশি মেয়ের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সাহায্যের কাতর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর রাতে ট্রেনে চেপে পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা। ১৮ অক্টোবর নিউ জলপাইগুড়িতে নেমে মানেভঞ্জন হয়ে সান্দাকফুতে পৌঁছন। সেখানে এক রাত কাটিয়ে টুমলিংয়ে যান তাঁরা। জয়িতা পালের কথায়, বেড়াতে যাওয়ার আগে তাঁর স্বামীর কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না। টুমলিংয়ে রাতে স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে গল্প করছিলেন বুবাই। আচমকাই শরীর খারাপ লাগার কথা জানান তিনি। এরপরই জল খেতে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের গায়ে ঢলে পড়েন তিনি। এরপর হোমস্টেতে থাকা চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর বলে জানানো হয়। পরে দার্জিলিংয়ে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। সেখানেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন জয়িতা। তাঁদের একমাত্র মেয়ে (দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ের) পড়াশোনাও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর দু’দিন পরেই ছিল মেয়ের জন্মদিন। সেই পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, এই কঠিন সময়ে যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ান। একমাত্র মেয়েকে বড় করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন স্বামীকে হারানো অসহায় স্ত্রী জয়িতা।
