নদীতে পানি নেই, তবু থেমে নেই ঐতিহ্য। শুকনো ইছামতী নদীতেই আয়োজন করা হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় পদ্মা নদীসংলগ্ন ইছামতী নদীতে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাহাদুরপুর ও ডেগিরচর গ্রামবাসী এবং বাহাদুরপুর বাজার বণিক সমিতি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীর মোল্লাবাড়ি পয়েন্ট থেকে নৌকাবাইচ শুরু হয়ে বাহাদুরপুর পদ্মাপাড় পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বিভিন্ন রঙে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মাঝিরা। নদীর দুই পাড়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় জমে। দর্শনার্থীদের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।
প্রতিযোগিতা শেষে গায়ানতরী ও গায়ানবাড়ী নামের দুটি নৌকাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। নৌকাবাইচ দেখতে মানিকগঞ্জের ঘিওর, শিবালয় ও সদর উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন।
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে নৌকাবাইচ দেখতে আসা মাসুদুর রহমান বলেন, “ইছামতী নদী শুকিয়ে গেছে, তারপরও অনেক মানুষ একসঙ্গে বাইচ দেখলাম। তবে আগে বাইচ হলে ভালো হতো।”
বাল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান গাছি বলেন, “ছোটকাল থেকে ইছামতী নদীতে দুর্গাপূজার দশমীর পরের দিন বাইচ দেখে আসছি। এবারও এসেছি। তবে নদীতে পানি নেই, তারপরও অনেক মানুষ হয়েছে।”
আয়োজক কমিটির সদস্য ও বাহাদুরপুর বাজার কমিটির সভাপতি রজ্জব মন্ডল বলেন, প্রায় ১০০ বছর আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এখানে নৌকাবাইচের প্রচলন হয়। দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজন হয়ে আসছে। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি সদস্য সুভাষ ভদ্র (৭৮) বলেন, “আমরা জন্মের পর থেকেই ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ দেখে আসছি।”
আয়োজক কমিটির সদস্য ও বাহাদুরপুর বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাহিন বলেন, এবার অক্টোবরে দুর্গাপূজার দশমী হওয়ায় ইছামতী নদীতে পানি ছিল না। তারপরও পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জুবায়ের ওমর।
