আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাড়ার বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মণ্ডপেই পরিণতি পেল ভালবাসা। মালাবদল থেকে সিঁদুরদান, পুরোহিতের উপস্থিতিতে যাবতীয় রীতি মেনেই চার হাত এক হল যুগলের। আর এই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা পাড়া সহ ঠাকুর দেখতে আসা অসংখ্য দর্শনার্থীরাও।
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার দশ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজী সংঘের বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়েছে আলোড়ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের বাসিন্দা বছর ২৬ এর তনু অধিকারীর সঙ্গে খড়দার বাসিন্দা সৌমি দফাদারের(১৮ বছর ১মাস অতিক্রান্ত) ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় হয়। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের। প্রায় এক বছর ধরে চলছিল সেই সম্পর্ক। তবে তরুণীর পরিবারের তরফে এই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না। সেই কারণেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে অশোকনগরে চলে আসেন ওই তরুণী। পরে পরিবারের সদস্যরা ফোন করতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তরুণীর আশঙ্কা ছিল, বাড়ি ফিরে গেলে তাঁকে মারধর করা হতে পারে, ফোন কেড়ে নেওয়া হতে পারে কিংবা অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতে পারে। সেই ভয়েই তিনি বাড়ি ফিরতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্লাবের সদস্যরা আলোচনা করে তাঁদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নেতাজী সংঘের সদস্যরা তড়িঘড়ি মালা, টোপর, শাঁখা-সহ বিয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করেন। খবর দেওয়া হয় দুর্গা পুজোর দায়িত্বে থাকা পুরোহিতকে। এরপর রাতেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিয়ের আয়োজন করা হয়। পুরোহিতের উপস্থিতিতে বিয়ের মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মালাবদল ও সিঁদুরদান-সহ বিয়ের বিভিন্ন রীতি।
তনু অধিকারী জানান, বিয়ের কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পরিস্থিতির কারণে আচমকাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অন্যদিকে, নেতাজী সংঘের সভাপতি অজয় কুমার দে জানান, ঘটনাটি তাঁদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে দু’জনের ভালোবাসার সম্পর্কের কথা জানার পর তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁরা চান, নবদম্পতি ভালভাবে সংসার করুন। বিয়ের সময় ক্লাবের সদস্যদের পাশাপাশি পাড়ার বাসিন্দা ও প্রতিমা দর্শনে আসা বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দর্শনার্থীদের অনেকেই দাঁড়িয়ে এই বিয়ে দেখেন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্তের ভিডিও করেন, যা পরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, নেতাজী সংঘের দুর্গাপুজো এ বছর ২৫ বছরে পদার্পণ করেছে। আর এই বছরই এমন ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো সারা ফেলে দিয়েছে। পরিবারের তরফে দশমীতে ঘরোয়াভাবে বৌভাতেরও আয়োজন করার কথা জানানো হয়েছে। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই বারোয়ারি পুজোর মণ্ডপে এই বিয়ে যেন অশোকনগরে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল।
