পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সড়কের কাজ তদারকির সময় স্থানীয়দের হাতে এলজিইডির বোদা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী নুরই আকরাম দেড় লাখ টাকাসহ আটক হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে বোদা থানায় নিয়ে আসে। রাতভর চলে নানা নাটকীয়তা।
পরে বিষয়টি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী পর্যন্ত গড়ায়। এরপর টাকার বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় অবশেষে গভীর রাতে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে আটকের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর রাতে (রাত ৩টায়) এলজিইডির বোদা উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান লিখিতভাবে তাকে জিম্মায় নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
এর আগে রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে টাকাগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সঙ্গে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন ওই উপসহকারী প্রকৌশলী।
বোদা থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, আটক টাকার বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলীর লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলজিইডির আওতাধীন সাকোয়া-নয়াদিঘী ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন। কিন্তু ওই সড়কের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী নুরই আকরাম তাদের অভিযোগে কর্ণপাত করছিলেন না।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার কাছে সিডিউল দেখতে চান স্থানীয়রা। এর আগে ওই কাজের ঠিকাদারের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আকরামকে একান্তে কথা বলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপর এলাকার লোকজন তাকে চ্যালেঞ্জ করলে উভয়ের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়।
এর মধ্যে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপসহকারী প্রকৌশলী নুরই আকরামকে তল্লাশি করে তার কাছে থাকা ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পায়। এরপর পুলিশ তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয়রা আরও জানান, অফিস বন্ধের দিন সাইটে এত টাকা সঙ্গে থাকার কারণ জানতে চাইলে নুরই আকরাম অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। তবে টাকাগুলো তার ব্যক্তিগত বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে এলজিইডির বোদা উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, আটক টাকার বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ রাতেই উপসহকারী প্রকৌশলী নুরই আকরামকে ছেড়ে দেয়। তবে বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করা হবে।
এদিকে বিষয়টি জানতে চাইলে এলজিইডির পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত ছাড়া কিছুই বলতে পারছি না। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।