কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর আনন্দঘন পরিবেশ নিমেষেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় রবিবার সন্ধ্যায়। নগরীর চোরবাগান এলাকার একটি জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত জনস্রোত, বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত স্থানসংকুলানের অভাবে এক মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। উৎসবের এই আনন্দক্ষণে অনভিপ্রেত এই দুর্ঘটনায় অন্তত সতেরো জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু পুণ্যার্থী। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা টলিউড পাড়ায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া এবং নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
এই অপূরণীয় ক্ষতি ও দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য। ওই দিন রাতেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওটিতে অত্যন্ত হাতজোড় করে তিনি সবার প্রতি আকুল আবেদন জানান, অতিরিক্ত জনসমাগমপূর্ণ স্থানে যেন কেউ ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ না করেন। উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বিষাদে রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান এই অভিনেতা।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ঘরে বসেই পুজো উপভোগ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সাহেব ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলাটাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। মনের ভেতর সত্যিকারের ভক্তি থাকলে ঘরে বসেই মুঠোফোন কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় প্রতিমা দর্শন করা সম্ভব, যার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিড়ের মধ্যে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সাহেব আরও যোগ করেন, গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রতিটি দৃশ্যই অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। উৎসবের দিনে স্বজন হারানোর ব্যথার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আর কিছু হতে পারে না। একজন শোকার্ত পিতার কান্না দেখার চেয়ে কষ্টের আর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাই নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আগামী দিনগুলোতে উৎসবের ভিড় এড়িয়ে চলার কোনো বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ সাহেব ভট্টাচার্য বর্তমানে জি বাংলার ‘গঙ্গা’ ধারাবাহিকে অত্যন্ত প্রশংসার সঙ্গে অভিনয় করছেন। এই ধারাবাহিকে তাঁকে একজন সাহসী পুলিশ অফিসার অর্জুনের চরিত্রে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী সুস্মিতা দের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে টলিউডের অন্দরমহলে বেশ চর্চা রয়েছে।
