কালবেলা · স্বাস্থ্য
ব্যায়ামের পর হৃদস্পন্দনই জানাবে শরীর কতটা সুস্থ
২১/১০/২০২৬

ব্যায়াম করার সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যায়াম শেষ করার পর কত দ্রুত হৃদস্পন্দন কমে আসে, তা শরীরের সুস্থতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগলে তা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা বা ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যায়াম শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময়ে হৃদস্পন্দন যতটা কমে, তাকে বলা হয় ‘হার্ট রেট রিকভারি’ (এইচআরআর)। সাধারণত ব্যায়াম থামানোর পর প্রথম এক মিনিটে হৃদস্পন্দন কতটা কমছে, তা দিয়ে এই হার পরিমাপ করা হয়।
১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষকরা প্রায় ২ হাজার ৪০০ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর গবেষণা চালান। ছয় বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, যাদের হৃদস্পন্দন পুনরুদ্ধারের হার কম, তাদের মৃত্যুঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও এ ধরনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
যেভাবে পরীক্ষা করবেন
প্রথমে ব্যায়ামের পর হৃদস্পন্দন মাপার জন্য স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহার করতে পারেন। ব্যায়াম শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে হৃদস্পন্দন মাপুন। এরপর এক মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার মাপুন। প্রথমবারের সংখ্যা থেকে দ্বিতীয়বারের সংখ্যা বাদ দিলেই পাওয়া যাবে হৃদস্পন্দন পুনরুদ্ধারের হার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম মিনিটে হৃদস্পন্দন অন্তত ১৮ বার কমা ভালো লক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে, ১২ বারের কম কমলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে। তবে বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও পরীক্ষার পদ্ধতি অনুযায়ী ফল ভিন্ন হতে পারে। শুধু এই পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা?
ব্যায়ামের সময় শরীরের সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র হৃদস্পন্দন বাড়ায়। ব্যায়াম শেষ হলে ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র হৃদস্পন্দন কমাতে সাহায্য করে। শরীর যত দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, সাধারণত হৃদস্পন্দন তত দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
হৃদস্পন্দন পুনরুদ্ধারের হার উন্নত করতে নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা দৌড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে। আগে থেকে হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ পরীক্ষা করা উচিত নয়।
সূত্র: বিবিসি
মূল প্রতিবেদনে যান ↗