চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পর সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে ভিডিওচিত্রসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাবা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে সাতকানিয়া থানা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদেরও বাধা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহেদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় পুলিশের সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, হামলা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার চার বছর বয়সী মেয়ে ওয়াসিফের মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হন।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার অবরোধে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকেরা।
