বাংলাদেশের বিক্ষোভ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে ভারতের জেন জি! বক্তা আইসা নেত্রী নেহা বোরা। দিল্লিতে তখত পালটানোই মূল উদ্দেশ্য। বক্তা প্রশান্ত ভূষণ। এই দু’জনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির দাবি করেছে, যারা তথাকথিত এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বিরোধী আন্দোলন করছে, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য দেশে অরাজকতা তৈরি। এবার ওই বিতর্কিত বক্তাদের তালিকায় কি নাম লিখিয়ে ফেললেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও? তিনিও কেন্দ্র সরকারকে একপ্রকার হুঁশিয়ারির সুরে বলে দিলেন, যেভাবে সরকার বিক্ষোভ দমন করার চেষ্টা করছে, সেটা চলতে থাকলে ভারতেও শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নিয়ম বদলের অভিযোগে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন পথে নেমে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। নবরাত্রি এবং উৎসবের মরশুমের জন্য সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তাল কেটেছে। তবে দিওয়ালির আগে ফের জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার হবে। এদিকে পালটা পদক্ষেপ করছে কেন্দ্রও। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকী যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যেভাবে সরকার বিক্ষোভ দমন করতে চাইছে সেটাতেই আপত্তি সোনম ওয়াংচুকের।
তিনি বলছেন, “গণতান্ত্রিক দেশে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কী হতে পারে তা সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার অবস্থা দেখেই বোঝা গিয়েছে। সরকার যদি শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি না দেয়, তাহলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।” সোনম ওয়াংচুক মনে করছেন, সুইডেন-নরওয়ের মতো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলির থেকে শিক্ষা নিতে পারে ভারত। এই দেশগুলিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়। সেটাও দেশের সংসদ ভবনের অদূরে। সেই একই পথে হেঁটে ভারত সরকারেরও উচিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়া।
সোনমের মতে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আসলে সরকারের কাছে জনমতের সঠিক বিশ্লেষণের একটি পন্থা। তাছাড়া এই বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ বাড়ানো সব নাগরিকের অধিকার। সেটা সরকার কেড়ে নিতে পারে না। তবে যেভাবে পরপর তথাকথিত আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে অরাজকতা তৈরি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন, তাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এঁদের উদ্দেশ্যটা কী?
