আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও স্থায়ী কর্মী নিয়োগের উপর জোর দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে নবনিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরকারি দপ্তরে কর্মীসঙ্কট, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নীতি এবং পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে তৃণমূল সরকারের নিয়োগনীতি নিয়ে সমালোচনাও।
মুখ্যসচিব জানান, রাজ্যে নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ১০ লক্ষ স্থায়ী সরকারি কর্মী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ। কর্মী সঙ্কটের প্রভাব প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেও পড়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন পরিচালনার সময় পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব কতটা সমস্যার সৃষ্টি করে, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যসচিব। আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন দপ্তরে যথেচ্ছ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে স্থায়ী পদে কর্মীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনিশ্চিত চাকরির পরিবেশে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
একইসঙ্গে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যসচিব। তিনি জানান, সংবিধান ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই শূন্য পদে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। এমনকি মুখ্যসচিব বা মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশেও কোনও প্রার্থীকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে না বলে পিএসসি-র চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে মুখ্যসচিবের বার্তা, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাঁর অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশের উপর অনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশকর্মীদের সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, “অপরাধী ও দুষ্কৃতীরা যাতে আইন ভাঙতে ভয় পায়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।” প্রশাসনিক সংস্কার, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং পুলিশি ব্যবস্থার উপর জনসাধারণের আস্থা ফেরানোর বিষয় তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
