পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বিজেপি কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘিরে অশান্তিতে কড়া পদক্ষেপ নিল আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনায় যুক্ত তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হল। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করলেন আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি মিঠু দাস। তিনি জানান, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ পেয়েই সংশ্লিষ্ট নেতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত হলেন জেলার অন্যতম সম্পাদক সুনীল মাহাতো, কুমারগ্রাম ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক দেবেশ বর্মন এবং কুমারগ্রাম ২ নম্বর অঞ্চলের কনভেনার দিলীপ পাণ্ডে। পাশাপাশি, দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে কালচিনি ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রাজেশ ছেত্রী এবং জেলা এক্সিকিউটিভ সদস্য রতন রায়কেও বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
দিন কয়েক আগে কামাখ্যাগুড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বিজেপি কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। তাতে নাম জড়ায় বিজেপি নেতাদেরই। অভিযোগ, দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে ওই অশান্তি ঘটে। জেলার রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে বেশ তরজাও চলে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনায় অভিযুক্ত নেতাদের চিহ্নিত করে সোজা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল। প্রকাশ্যে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে জেলা সভাপতি মিঠু দাস স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, দলীয় স্তরে কোনও বিশৃঙ্খলতা বরদাস্ত করা হবে না।
আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির এহেন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আগে বারবারই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সর্বস্তরে বার্তা দিয়েছেন, শাসকদলের নাম ভাঙিয়ে কোথাও কোনওরকম গা-জোয়ারি চলবে না, চলবে না ঔদ্ধত্য কিংবা বিশৃঙ্খলতাও। তেমন অভিযোগ পেলেই দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাঁর সেই নির্দেশ অনুসরণ করেই জেলায় দলের ৩ পদাধিকারীকে বহিষ্কার করলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি। তবে এপ্রসঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাদের বক্তব্য এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। দলীয় স্তরে এই পদক্ষেপের পর আগামী দিনে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
