Published on
:
2 min read
‘শারদোৎসব মানেই আমার কাছে এক ঝলক শৈশবকে ফিরে পাওয়া। নস্ট্যালজিয়ায় ডুব দেওয়া। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শুনতে শুনতেই কখন যেন পৌঁছে যাই বাবা ও মায়ের ফেলে যাওয়া অমূল্য স্মৃতি, স্মরণ ও শ্রদ্ধায়। ছোটবেলায় দেখেছি পুজোর কত আগে থেকেই আমাদের বাড়িতে বাবা ও মায়ের মধ্যে ঘনঘন শলা-পরামর্শ চলছে তো চলছেই। কাকা, মাসি, পিসি থেকে তাঁদের সন্তানদের কার কী পছন্দ বা অপছন্দ তা নিয়ে দীর্ঘ তালিকা তৈরি হয়ে যেত। এসব দেখে আমার খুবই মজা লাগতো। তবে হ্যাঁ, তালিকায় অগ্রাধিকার পেতেন ঠাকুমা-ঠাকুরদা। আমি পুজোর প্রথম উপহার হিসেবে নতুন ফ্রক পেতাম আমার ছোট মামার কাছ থেকে।
পুজোর কয়েকটি দিন আনন্দে কেটে যেত। ছোটবেলায় স্কুল ছুটি পড়ে যেত বলে অনেক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতো না। ইস, তখন যদি মোবাইল থাকতো তা হলে বন্ধুদের অনুপস্থিতি আর টের পেতাম না। এখন পুজোয় ঘোরাঘুরি করি না তা নয়। তবে সময় ও পরিস্থিতির কারণে সব সময়ে সম্ভব হয় না। আমি, আমার ভাই, বাবা, মা সবাই মিলে আমরা কোনও না কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। পঞ্চমী থেকে নবমী এই ক’দিন টানা অনুষ্ঠান চলতো। আর এই সময়ে পাড়া ছেড়ে আমরা কেউই আর কোথাও যেতাম না। তবে হ্যাঁ, নবমীর রাত থেকে ছবিটা বদলে যেত। বাবা গাড়ি করে আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। সারা রাত ধরে কলকাতার প্রায় সবক’টি সেরা পুজো দেখা হয়ে যেত। ভাসানের দিন পাড়া ছেড়ে আর কোথাও বেরোতাম না। দশমী মানেই ঘুঘনি, নাড়ু ও কুচো নিমকি খাওয়ার মজা এখনও ভুলতে পারি না। আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগেও পাড়ায়-পাড়ায় কত মেলামেশা এবং একাত্মতা কাজ করতো। সবাই সবার বাড়ি যেতেন, বিশেষ করে বিজয়া দশমী উপলক্ষে। আর এখন? কাল-সময়-পরিস্থিতি যেন আমাদের সমাজটাকেই বদলে দিল। তার বোধহয় বড় কারণ মানুষের ব্যস্ততা।
ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়Ei Samay
তবে এটা ঠিক, পেশাগত কারণে যখনই কলকাতার বাইরে থাকতে হয়, তখন মনের মধ্যে বারবার ভেসে ওঠে কলকাতার ছবিটা। সেই ভিড়, সেই রাতভর হুল্লোড়, চুটিয়ে আড্ডা। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর এদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাই, তাতে সাড়া দিয়ে চলেও যেতে হয়। এ দেশের মধ্যে থাকলে অবশ্যই অন্তত একদিন পুজোয় থাকার চেষ্টা করি। বিদেশে গেলে মন পড়ে থাকে পাড়ার প্যাণ্ডেলে। কানে যেন বাজতে থাকে ঢাকের বাদ্যি, ঢাকির নাচ আর নিখুঁত কাঁসর-ঘণ্টা। সত্যি দুর্গাপুজো মানেই যেন আপামর বাঙালির এক চূড়ান্ত অনুভূতি।’
