ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা তাঁকে একবাক্যে আধুনিক ক্রিকেটের মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি বলে মেনে নিয়েছেন। ফাইন লেগের উপর দিয়ে স্কুপ, উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে র্যাম্প শট কিংবা শরীরের পিছন দিকে বল পাঠিয়ে দেওয়ায় যাঁর জুড়ি মেলা ভার। তিনি সূর্যকুমার যাদব। তাঁর নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। তারপর থেকে অবশ্য তাঁর ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়। জাতীয় দলে দীর্ঘদিন জায়গা পাননি। এমনকী মুম্বইয়ের রনজি দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সেই সূর্যই যদি নামেন বেসবলের মাঠে? সেখানে কি চলবে তাঁর চেনা সব শট?
ক্রিকেটের সঙ্গে বেসবলের ফারাক বিস্তর। ক্রিকেটে মাঠের প্রায় সব দিকেই বল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে ব্যাটারের। বেসবলে কিন্তু ব্যাটারের সামনে নির্দিষ্ট অংশের মধ্যেই বল পাঠাতে হয়। সেই সীমার বাইরে গেলে তা ‘ফাউল বল’। নেই ক্রিকেটের মতো বলের বাউন্স দেখে খেলার সুযোগও। ব্যাট গোলাকার। বলও আসে অন্য কায়দায়। আবার বোলারদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আলাদা। ক্রিকেটের মতো হাত সোজা রেখে বল করার বাধ্যবাধকতা নেই বেসবলে। ফিল্ডারদের ভরসা প্যাড নয়। চামড়ার দস্তানা।
২৪ অক্টোবর মুম্বইয়ের আন্ধেরি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মুম্বই ফুটবল অ্যারেনায় বেসবল ও সফটবলের তারকাদের সঙ্গে একই মাঠে দেখা যাবে সূর্যকুমার যাদব, শার্দূল ঠাকুর, জিতেশ শর্মা, কাশভি গৌতম, রাধা যাদব ও দীপক চাহারকে।
ভারতে বেসবল খেলার প্রসারের লক্ষ্যে মেজর লিগ বেসবল ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমারকে। এই নতুন খেলায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা দিতে চলেছেন ভারতের ছয় ক্রিকেটার। ২৪ অক্টোবর মুম্বইয়ের আন্ধেরি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মুম্বই ফুটবল অ্যারেনায় বেসবল ও সফটবলের তারকাদের সঙ্গে একই মাঠে দেখা যাবে সূর্যকুমার যাদব, শার্দূল ঠাকুর, জিতেশ শর্মা, কাশভি গৌতম, রাধা যাদব ও দীপক চাহারকে। ইভেন্টের নাম ‘এমএলবি এক্স: মুম্বই’। ভারতে এই প্রথম এমন আয়োজন করছে মেজর লিগ বেসবল। চারটি দলে ভাগ হয়ে খেলবেন ক্রিকেট, বেসবল ও সফটবলের তারকারা। প্রত্যেক দলে থাকবেন এমএলবির এক কিংবদন্তি, এক ভারতীয় ক্রিকেটার এবং অ্যাথলিটস আনলিমিটেড সফটবল লিগের এক তারকা। খেলা হবে ৩ জনের ফরম্যাটে।
চার দলে কোন তারকারা? নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিজের হয়ে খেলবেন নিক সুইশার, সূর্যকুমার যাদব ও র্যাচেল গার্সিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের দলে আছেন আদ্রিয়ান গঞ্জালেস, জিতেশ শর্মা ও জর্ডান উলারি। শিকাগো কাবসের হয়ে নামবেন জেক অ্যারিয়েটা, শার্দূল ঠাকুর ও রাধা যাদব। আর বোস্টন রেড সক্সের দলে রয়েছেন জনি গোমস, কাশভি গৌতম ও দীপক চাহার। ভারতের হয়ে তিন ধরনের ক্রিকেটেই খেলা শার্দূল ঠাকুরের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। দু’বার চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল জিতেছেন তিনি। ২০২০-২১ মরশুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের টেস্ট সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল তাঁর। এবার শিকাগো কাবসের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ।
এই ইভেন্ট নিয়ে আপাতত সবচেয়ে বেশি চর্চায় সূর্যকুমার যাদব। অনেকেই বলছেন, ‘স্কাই’ কি তবে ক্রিকেট থেকে বিরতি নিতে চলেছেন?
ক্রিকেটে উইকেটকিপার যেমন স্টাম্পের পিছনে দাঁড়ান, বেসবলে ক্যাচারের ভূমিকাও তেমনই। ২০২৫ সালে আইপিএলজয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের সদস্য ছিলেন জিতেশ শর্মা। ২০২২ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় দলেরও অংশ ছিলেন এই উইকেটকিপার। কাশভি গৌতমের নাম ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত এক ঐতিহাসিক কৃতিত্বের জন্য। ২০২০ সালে বিসিসিআইয়ের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এক ইনিংসে ১০টি উইকেট নিয়েছিলেন। সঙ্গে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। রয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার রাধা যাদব। একাধারে তিনি দুরন্ত ফিল্ডারও। ২০২৫ সালের মহিলাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন মুম্বইয়ে জন্মানো এই ক্রিকেটার। ছোটবেলায় আবাসনের ছেলেদের সঙ্গে টেনিস বল ক্রিকেট খেলেই হাতেখড়ি তাঁর।
বেসবলের তারকারাও কম যান না। নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিজের হয়ে ২০০৯ সালে বিশ্ব সিরিজ জিতেছিলেন নিক সুইশার। ২০১০ সালে জায়গা করে নিয়েছিলেন অল-স্টার দলেও। পাঁচবার এমএলবি অল-স্টার এবং চারবার গোল্ড গ্লাভ পুরস্কারজয়ী আদ্রিয়ান গঞ্জালেসও থাকছেন। গোল্ড গ্লাভ দেওয়া হয় বেসবলে সেরা রক্ষণাত্মক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসাবে। জনি গোমস এমএলবিতে ১৩ মরশুম খেলেছেন। ২০১৩ সালে বোস্টন রেড সক্সের বিশ্ব সিরিজজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। আর জেক অ্যারিয়েটা ২০১৫ সালে জিতেছিলেন ন্যাশনাল লিগের সাই ইয়ং পুরস্কার। লিগের সেরা পিচারকে দেওয়া হয় এই সম্মান। পরের বছর শিকাগো কাবসের ঐতিহাসিক বিশ্ব সিরিজ জয়ের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
সফটবলের তারকারাও সাফল্যের নিরিখে পিছিয়ে নেই। র্যাচেল গার্সিয়া দু’বার এনএফসিএ-র বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। অলিম্পিকে রুপোও রয়েছে তাঁর। এইউএসএলের প্রথম ড্রাফটে প্রথম নির্বাচিত খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, চলতি বছর সফটবল আমেরিকা ও বিগ টেনের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পেয়েছেন জর্ডান উলারি। তিনজনের এই ফর্ম্যাটে ম্যাচ হবে ছোট। গতি থাকবে বেশি। এবং সেই ইভেন্ট নিয়ে আপাতত সবচেয়ে বেশি চর্চায় সূর্যকুমার যাদব। অনেকেই বলছেন, ‘স্কাই’ কি তবে ক্রিকেট থেকে বিরতি নিতে চলেছেন?
