মশার লার্ভা নিধনে আনা ওষুধের মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করায় সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম আর এন্টারপ্রাইজের কার্যাদেশ বাতিল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে সরবরাহ করা ওষুধ ফেরত নিতেও প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভায় ডিপিএম পদ্ধতিতে নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে নতুন মশার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নতুন এই ওষুধের প্রতি লিটারের দাম পড়ছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে কেসিসি যে লার্ভিসাইড ব্যবহার করছে, তার প্রতি লিটারের দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ওষুধের মজুত শেষ হয়ে আসায় আপাতত এক হাজার লিটার ওষুধ দ্রুত কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্রহণের আগে নতুন এই ওষুধও পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেসিসিকে সরবরাহ করে এম আর এন্টারপ্রাইজ। গত ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদদের উপস্থিতিতে ওই ওষুধের মাঠ পরীক্ষা চালায় কেসিসি। কিন্তু ওষুধ প্রয়োগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১২ শতাংশ লার্ভাও মরেনি। ঠিক এক মাস পর মঙ্গলবার সেই কার্যাদেশ বাতিল করা হলো।
কেসিসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মশক নিধন ওষুধের মধ্য থেকে কেসিসির অনুমোদিত কমিটি র্যান্ডম স্যাম্পল (নমুনা) সংগ্রহ করে। ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষায় লার্ভার মৃত্যুর হার ১২ শতাংশ পাওয়া যায়, যা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বরের কার্যাদেশ বাতিলসহ ওষুধ ফেরত গ্রহণের জন্য বলা হলো।
এ ব্যাপারে এম আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ড. মো. মাহবুবুর রহমান গাজী বলেন, ‘দরপত্রের শর্তে এটি ছিল না এবং কেসিসির ওষুধ পরীক্ষার পদ্ধতি সঠিক ছিল না। আমরা নতুন করে পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলাম। এ নিয়ে আলোচনাও চলছিল। এখন হঠাৎ করে কার্যাদেশ বাতিল করায় আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘দরপত্রের অন্যতম শর্ত ছিল মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ওষুধের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষাতেই তারা ফেল করেছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রতিবছর একাধিকবার এভাবেই মশার ওষুধ পরীক্ষা করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদ ও রাসায়নিক বিশেষজ্ঞদের সামনেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে ওষুধ পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল সবাই দেখেছে এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।’
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আগের ঠিকাদারের পক্ষে অনেকে তদবির করেছেন, কিন্তু ভেজাল ওষুধ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। মানুষের জীবন নিয়ে আমরা ছেলেখেলা করতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধের মজুত শেষ দেখে দ্রুত ওষুধ কেনার জন্য বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারাও এই ওষুধ ব্যবহার করছে। দামের বিষয়টি নিয়ে আবারও বৈঠক করব।’
এদিকে উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়েও পরীক্ষা চালিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার বিকেলে নগরের কেসিসির গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশক বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে এ পরীক্ষা করা হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এর ফলাফল প্রকাশ করবে কেসিসি।
মোহাম্মদ মিলন/বিআরইউ
