Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শনিবার রাতে ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং ঢোকা ও বেরোনোর পথে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য দিকে, আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তবে এর মাঝেই অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার ইউনিটই নেই বলে দাবি তাঁদের।
ঘটনার পরেই কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খোদ। রাতেই আহতদের দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যান তিনি। সেখান থেকে একটি ভিডিয়ো বার্তায় শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।’ এর পরে রাতেই ১২ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে চোরবাগান সর্বজনীন পুজোর উদ্যোক্তা এবং স্বেচ্ছাসেবকরা রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পদপিষ্টের ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ২৫ জন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু মাঝপথে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ‘চিকিৎসা চলাকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দেন, পরিবারের সদস্যরা যদি আহতদের নামী কোনও বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান, তা হলে যেন ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’ এতে সরকারি হাসপাতালের বেআব্রু দশা প্রকাশ্যে চলে এল বলে মত তাঁদের।
তাঁদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ১৮ জনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি তাঁরা। তবে দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। পাশাপাশি এ দিন কলকাতা মেডিক্যালে কোনও ট্রমা কেয়ার সেন্টার নেই বলেও দাবি করে তাঁরা বলেন, ‘রাস্তায় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিক্যালে কোনও ট্রমা কেয়ার সেন্টার নেই।’ শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন নিউরো সার্জারি বিভাগের পরিষেবার অবস্থাও শোচনীয় বলেও দাবি তাঁদের।
উল্লেখ্য, পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যে ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।
