Published on
:
2 min read
৪৭-এ পা দিলেন প্রভাস। আর অভিনেতার জন্মদিনে সামনে এল ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র সিক্যুয়েলের বিশেষ ঝলক। একদিকে নতুন ছবিতে ভৈরবের প্রত্যাবর্তন, অন্য দিকে ‘বাহুবলী’র জন্য পেশিবহুল চেহারা তৈরি থেকে ‘সাহো’র জন্য ওজন কমানো— প্রভাসের ফিটনেস যাত্রা বরাবরই চর্চায় থেকেছে। ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে কী ভাবে বারবার নিজের শরীরের গড়ন বদলেছেন তিনি?
প্রভাসের ফিটনেসের কথা উঠলেই প্রথমে মনে পড়ে এসএস রাজামৌলির ‘বাহুবলী’ ছবির কথা। অমরেন্দ্র বাহুবলীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের শরীরকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছিলেন অভিনেতা। এই ছবির প্রস্তুতির সময়ে প্রায় ৮২ কেজি থেকে তাঁর ওজন বেড়ে হয়েছিল ১০০ কেজির কাছাকাছি। দীর্ঘদিন কঠোর শরীরচর্চা এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে তৈরি করেছিলেন পেশিবহুল চেহারা। প্রশিক্ষক লক্ষ্মণ রেড্ডির তত্ত্বাবধানে চলত তাঁর প্রস্তুতি। তবে ‘বাহুবলী’র ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ছিল আরও বড়। একই ছবিতে অমরেন্দ্র বাহুবলী এবং তাঁর ছেলে মহেন্দ্র বাহুবলী, চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে। অমরেন্দ্রর জন্য প্রয়োজন ছিল চওড়া কাঁধ ও পেশিবহুল শরীর। অন্য দিকে মহেন্দ্র বাহুবলী ক্ষেত্রে দরকার ছিল তুলনায় ছিপছিপে, অ্যাথলেটিক চেহারা। তাই চরিত্র অনুযায়ী বদলেছিল তাঁর ব্যায়াম এবং খাবারের তালিকাও। জানা যায়, তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকত ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংস, মাছ, বাদাম এবং সব্জি।
এর পর ২০১৯-এ ‘সাহো’ ছবির জন্য ফের নিজের চেহারায় পরিবর্তন আনেন প্রভাস। ‘বাহুবলী’র পেশিবহুল চেহারা থেকে বেরিয়ে এসে তুলনায় ছিপছিপে গড়ন তৈরি করার চেষ্টা করেন তিনি। জানা যায়, এই সময়ে প্রায় ১০ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন অভিনেতা। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, পেশি তৈরি করার পর সেই চেহারা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না। ওজন কমানোর জন্য কয়েক মাস নিরামিষ খাবারও খেয়েছিলেন তিনি।
প্রভাসের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। ‘বাহুবলী’র প্রস্তুতির সময়ে দিনে ৪০টি ডিম খাওয়ার খবর ছড়িয়েছিল। তবে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন এত ডিম খাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। কোনও-কোনও দিন প্রায় ২০টি ডিম খেতেন তিনি। যদিও এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস সাধারণ মানুষের অনুসরণ করা উচিত নয়। প্রত্যেকের শরীর ও শারীরিক চাহিদা আলাদা। তাই ফিট থাকতে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।
‘সালার’-এর মতো অ্যাকশন ছবিতেও পেশিবহুল চেহারায় দেখা গিয়েছে প্রভাসকে। পরিচালক প্রশান্ত নীলের চাহিদা অনুযায়ী এই ছবির জন্যও শরীরের গড়নে পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। অর্থাৎ, কোনও একটি নির্দিষ্ট চেহারায় আটকে না থেকে চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলানোই তাঁর ফিটনেস যাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এবার জন্মদিনে প্রভাসের অনুরাগীদের জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে এল ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র টিম। পরিচালক নাগ অশ্বিন প্রকাশ করেছেন সিক্যুয়েলের ৩২ সেকেন্ডের একটি বিশেষ ভিডিয়ো। সেখানে ‘ভৈরব ইজ ব্যাক’ বার্তার সঙ্গে দেখা যায় প্রভাসকে। লম্বা চুল, দাড়ি এবং পরিচিত বর্মে আবারও নিজের চরিত্রে ফিরেছেন অভিনেতা। পাশাপাশি তাঁর গাড়ি বুজ্জির ঝলকও রয়েছে ভিডিয়োতে। ‘বাহুবলী’র যোদ্ধা থেকে ‘সাহো’র অ্যাকশন হিরো, ‘সালার’-এর পেশিবহুল চরিত্র কিংবা ‘কল্কি’র ভৈরব—প্রতিটি ছবিতেই আলাদা ভাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন প্রভাস। ৪৭-এ পা দিয়েও নতুন চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি প্রমাণ করে, পর্দায় নিজেকে বদলে ফেলার ক্ষেত্রে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। জন্মদিনে তাই অভিনেতাকে ঘিরে অনুরাগীদের আগ্রহের পাশাপাশি বাড়ছে তাঁর আগামী ছবির অপেক্ষাও।
