আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে ৮০ কোটিই কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে না বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। দেশগুলো এখনই নীতিগত পরিবর্তন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে বিপুলসংখ্যক তরুণকে বেকার ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের অফিশিয়াল সম্প্রচারমাধ্যম ইউএন ওয়েব টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত সদর দপ্তরের নিয়মিত মধ্যাহ্নকালীন সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ সতর্কবার্তা দেন ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভার পার্শ্ববর্তী আয়োজন থেকে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হন তিনি। ২২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের এই অনলাইন ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নতুন নীতিগত প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এর মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন ডি ক্রু।
বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা ও প্রযুক্তির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি নীতিগত পরিবর্তন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখনই না নেওয়া হয়, তবে এই সংকট নিজে থেকে সমাধান হবে না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষের গড় বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে চলমান ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’ হিসেবে উচ্চ ঋণ পরিশোধের চাপ, তীব্র এল নিনো এবং জ্বালানি সংকটের চিত্র ব্যাখ্যা করেন ইউএনডিপি প্রধান।
তিনি জানান, মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো বর্তমানে তাদের মোট রাজস্বের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় এ হার তিন গুণ এবং গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে আরো ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংকট মোকাবিলায় ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের অংশীদারত্বে ইউএনডিপির দুটি নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগের লোগো ও স্লাইড উন্মোচন করেন ডি ক্রু। উদ্যোগ দুটি হলো ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর’ ও ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’। নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউএনডিপি প্রশাসক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিমা খাতে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ঘটলেও সেবা, কৃষি ও পর্যটনের মতো শ্রমঘন খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।
২০১৫ সালে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির বিপরীতে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের বিমা সুরক্ষা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ উদাহরণ টেনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান ডি ক্রু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষকে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে বিশ্বজুড়ে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। সূত্র: বাসস
সানা/ডিসি/আপ্র/১৪/১০/২০২৬
