৫১ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৫১ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন ক্লাসে অনেক কিছু শিখতে হয়। পরীক্ষার জন্য সেসব মনে রাখাও জরুরি। কিন্তু কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াই শেখার উদ্দেশ্য নয়। শেখা বিষয় কাজে লাগাতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়া কীভাবে শিখলে দীর্ঘদিন মনে থাকবে, তা জানা দরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড সামার স্কুলে স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ান শিক্ষাবিদ ও গবেষক ট্রেসি তোখুহামা-এস্পিনোসা। তার মতে, শেখা বিষয় মনে রাখার কোনো একক পদ্ধতি নেই। নিজের অভ্যাস বুঝে পড়ার কৌশল ঠিক করতে হবে। পড়ার সময় একাধিক বিষয় কাজে লাগানো এবং শেখা বিষয় নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাও উপকারী।

বিরতি দিয়ে পড়া
একই দিনে অনেকক্ষণ ধরে পড়ার বদলে বিরতি দিয়ে পড়া বেশি কাজে দিতে পারে। যেমন, আজ কোনো অধ্যায় পড়ার পর পরদিন আবার সেটি ঝালিয়ে নেওয়া যায়। কয়েক দিন পর আরেকবার পড়া যেতে পারে। এভাবে নিয়মিত অনুশীলন করলে শেখা বিষয় মনে রাখা সহজ হয়।
নিজেই নিজের পরীক্ষা নেওয়া
পড়া শেষে বই বন্ধ করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। চাইলে আগের পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করা যায়, কিংবা নিজেই প্রশ্ন তৈরি করে উত্তর লিখতে হবে।
এতে কোন বিষয়গুলো ভালোভাবে শেখা হয়েছে আর কোনগুলো আবার পড়া দরকার, তা বোঝা যায়। ছোট ছোট পরীক্ষার মাধ্যমে অনুশীলন করলেও শেখা বিষয় মনে রাখা সহজ হয়।

অন্যকে বুঝিয়ে বলা
কোনো বিষয় ভালোভাবে শেখার একটি উপায় হলো সেটি অন্য কাউকে বুঝিয়ে বলা। যেমন, বিজ্ঞানের কোনো বিষয় পড়ার পর বন্ধুকে নিজের ভাষায় বুঝিয়ে বলা যায়। পরিবারের কাউকে বিষয়টি শেখানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
নিজের ভাষায় বুঝিয়ে বলতে গেলে বিষয়টি কতটা পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে, তা ধরা পড়ে। কোথাও আটকে গেলে সেই অংশটি আবার পড়তে হবে।
বুঝে বুঝে নোট লেখা
ক্লাসে শিক্ষকের কথা বা বইয়ের সবকিছু হুবহু লিখে রাখার দরকার নেই। বরং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখে রাখা ভালো। কয়েকভাবে নোট তৈরি করা যায়—
প্রশ্ন ও উত্তর: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে প্রশ্ন তৈরি করে পাশে উত্তর লিখে রাখা।
ছক বা তালিকা: বড় বিষয়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে লেখা।
মাইন্ড ম্যাপ: একটি মূল বিষয়কে মাঝখানে রেখে তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যগুলো চারপাশে সাজানো।
এক বাক্যে সারাংশ: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মূল কথা এক বাক্যে লেখা।
এরপর কোন পদ্ধতিতে পড়া বুঝতে ও মনে রাখতে সুবিধা হয়, সেটি বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ভুল থেকে শেখা
পরীক্ষার খাতা বা বাড়ির কাজ দেখে শিক্ষক কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে তা মন দিয়ে বুঝতে হবে। কোথায় ভুল হয়েছে এবং পরেরবার কীভাবে ঠিক করা যায়, তা ভাবতে হবে।
ভুল হওয়া মানেই শিখতে পারেনি, ব্যাপারটা এমন নয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরেরবার একই ভুল এড়িয়ে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।
পড়ার পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত?
সবার পড়ার ধরন এক রকম নয়। কেউ নীরব পরিবেশে ভালোভাবে পড়তে পারে, আবার কারও গ্রুপ করে আলোচনা করে শিখতে সুবিধা হয়। তাই নিজের জন্য কোন পরিবেশে পড়া সবচেয়ে কার্যকর, তা খুঁজে বের করা দরকার।
মোটকথা, শেখার ব্যাপারটা কেবল বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে না। কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, ছবি বা ছক তৈরি করা এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমেও শেখা যায়।
হার্ভার্ডের শিক্ষাবিদ ট্রেসি তোখুহামা-এস্পিনোসার মতে, শেখা বিষয় নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে বুঝতে পারলে তা মনে রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন, ইতিহাসের কোনো ঘটনা পড়ার সময় বর্তমান সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুঁজে দেখা যেতে পারে।
