ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কায়েমপুর ইউনিয়নের ঝিঁকরা এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ৩২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু। কিন্তু সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় এটি কাজে আসছে না স্থানীয়দের। বাধ্য হয়ে সেতুর পাশেই নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সেতু তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৩২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। কিন্তু দুই পাশের সংযোগ সড়ক নিচু থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ঝিঁকরা এলাকায় গুংগুর নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এই সেতু। কসবা উপজেলা ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যেই নির্মিত হয় সেতুটি। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু এখন ব্যবহারের অনুপযোগী।
সেতুতে উঠানামা করতে না পারার কারনে নদীর এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াত করতে স্থানীয়রা নিজেরাই তৈরি করেছেন একটি কাঠের সেতু।এই কাঠের সেতু দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের জন্য এভাবে চলাচল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা দেখলেই বোঝা যায় ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল নতুন সেতুটি চালু হলে তাঁদের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। সেতু নির্মাণে সরকার বরাদ্দ দেয় ৩ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেতুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও মোস্তফা কামাল জেমি এন্টারপ্রাইজ। নির্ধারিত সময়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও দুই পাশের মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় এর উপকার পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা।
কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে ব্যবহার করতে পারছেনা দুই উপজেলার মানুষ। সেতু তৈরি হওয়ার পরেও সামান্য একটি কাঠের সেতু দিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন কাজটা শেষ করছেন না আমাদের বুঝে আসছে না। আমি দ্রুত এই সমস্য নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও আমাদের মুশফিকুর রহমান এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল হক আকন্দ বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে। মাটি কাটার ভেকু মেশিন না পাওয়ায় কারন দেখাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের এই কাল ক্ষেপনের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের।
