জ্বালানিসংকট কাটিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অর্থনীতির পূর্ণ পুনরুদ্ধারে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণকে অবাস্তব আশ্বাস দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিতে চান না তিনি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই বছরে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, তৃতীয় বছরে গতি ফিরবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি পূর্ণমাত্রায় ঘুরে দাঁড়াবে।
বর্তমান সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানিসংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। এর সঙ্গে আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল দেনা ও বিভিন্ন খাতের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে কঠিন করেছে।
ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেশি এবং ব্যবসা সহজ করার পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে পৃথক দুটি সংস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাপেক্সের মাধ্যমে ৫০টি নতুন কূপ খননের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্থলভাগ ও সমুদ্রে অনুসন্ধানের পাশাপাশি উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকার অন্তত ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এ খাতের অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের কর ছাড়ও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
