প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে রংপুরের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে বিরাজ করছে আগ্রহ, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এর মাত্রা আরও বেশি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী পূজাম-প পরিদর্শন করবেনÑ এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এদিকে রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিএনপি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর আগমন রংপুরবাসীর আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
জেলা প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি থেকে জানা যায়, আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বিমানযোগে সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বেলা ১১টায় তিনি রংপুর ধর্মসভা পূজাম-প পরিদর্শনসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর গিয়ে সামরিক বিমানযোগে রাজশাহী এবং পরে চট্টগ্রাম সফর করার পর ঢাকায় ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পুলিশ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতারা ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করেছেন। সম্প্রতি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন ধর্মসভা মন্দির কমিটির সঙ্গে পৃথক সভা করেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মন্দিরে প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ ও পরিদর্শনের সময় শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য ডা. নিখিলেশ চন্দ্র গুহ রায়, ধর্মসভা মন্দির কমিটির সভাপতি পার্থ বোসসহ অন্যরা।
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজা পরিদর্শন করবেন। এতে রংপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবাই আনন্দিত। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে রংপুর সিটি করপোরেশনকে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে নগরবাসীও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খুশি। এর ওপর রংপুরে তার আগমন নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য ডা. নিখিলেশ চন্দ্র গুহ রায় বলেন, ‘আমরা সনাতনীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে অধীর অপেক্ষায় রয়েছি। তার আগমনের মধ্য দিয়ে রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে একটি পূজাম-পে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ জন্য নগরীর শ্রীশ্রী করুণাময়ী কালীমন্দির, ধর্মসভা ও গুপ্তপাড়া মন্দির প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যান্য দপ্তর নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর ঘিরে প্রশাসনকে কয়েক স্তরে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠে রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন।