আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পর তিলক ভার্মার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। তরুণ ভারতীয় ব্যাটারের মানসিক দৃঢ়তা, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলের প্রয়োজনে যে কোনও দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকার মানসিকতা দেখে তিলককে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে দেখছেন তিনি।
শনিবার ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিলক। তাঁর দুরন্ত ইনিংসের সৌজন্যে ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে এক বল বাকি থাকতেই চার উইকেটে জয় তুলে নেয় ভারত। একসময় ৭০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়েছিল ভারত। সেখান থেকে নমন ধীর ও নীতিশ কুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের সরণিতে ফেরান তিলক।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিলকের প্রশংসা করে পাঠান বলেন, ব্যাটিং অর্ডারের বিভিন্ন জায়গায় খেলেও ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিন নম্বরে ব্যাট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি শতরান রয়েছে তিলকের। আবার মাঝের সারিতে নেমেও শেষের ওভারগুলিতে দ্রুত রান তুলে দলকে জেতাচ্ছেন তিনি।
পাঠানের কথায়, “তিলক ভার্মা অসাধারণ ব্যাটার এবং বহুমুখী ক্রিকেটার। তিন নম্বরে ব্যাট করে শতরান করেছে, আবার নিচের দিকে নেমেও ম্যাচ জেতাচ্ছে। ওর এই দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্বকাপের সময় মাঝের সারিতে ব্যাট করতে শুরু করেছিল তিলক। সেই ভূমিকা গ্রহণ করেও ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করে চলেছে।”
ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ২১ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। কিন্তু চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে লড়াই চালিয়ে যান তিলক। প্রথমে নমন ধীরের সঙ্গে ২৫ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন তিনি। নমন ১৭ বলে ৩১ রান করে আউট হওয়ার পর নীতিশ রেড্ডির সঙ্গে মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিলক। নীতিশ অপরাজিত থাকেন ১৩ বলে ২৬ রানে।
তিলকের ইনিংসে ছিল ছ'টি চার ও একটি ছক্কা। মাত্র ২৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। আগের ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অল্প রানেই আউট হয়েছিলেন তরুণ ব্যাটার। কিন্তু সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে পরের ম্যাচেই যেভাবে দলকে জেতালেন, তাতেই তাঁর মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দেখছেন পাঠান।
তিনি বলেন, “শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের প্রতি ওভারে ১২ রানেরও বেশি দরকার ছিল। উইকেট পড়ে গিয়েছিল, দল চাপে ছিল এবং প্রতিপক্ষ স্পিনার নিয়ে এসেছিল। কিন্তু পেসাররা বল করতে আসতেই তিলক দুর্দান্ত ব্যাটিং করে। আগের ম্যাচে স্পিনারের বলে আউট হয়েছিল ও। সেই ব্যর্থতা পিছনে ফেলে পরের ম্যাচেই অপরাজিত অর্ধশতরান করেছে। এটাই প্রমাণ করে ওর মানসিকতা কতটা শক্তিশালী।”
তিলকের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও স্পষ্ট মত জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার। তাঁর মতে, একজন নেতার সবচেয়ে বড় গুণ হল দলের প্রয়োজনে নিজের ভূমিকা বদলে নেওয়া এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করা। তিলকের মধ্যে সেই গুণগুলি রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
পাঠানের কথায়, “আমি বারবার বলি, তিলক ভবিষ্যতের নেতা। নেতৃত্ব দিতে গেলে মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হয়, আর তিলক সেটা দেখিয়েছে। ও তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারে, আবার পাঁচ, ছয় কিংবা সাত নম্বরেও নামতে পারে। দলের যা প্রয়োজন, সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ও। এটাই একজন নেতার গুণ।”
এদিকে, ভারতের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে। গ্লেন ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ এবং বেভন জেকবস ৪৬ বলে ৫৮ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে দু'জনে ১১৬ রান যোগ করে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেন। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং দুটি উইকেট নেন। প্রিন্স যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার ও নীতিশ রেড্ডিও উইকেট পান।
শেষ পর্যন্ত তিলকের অপরাজিত ইনিংসেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। আর সেই পারফরম্যান্সের পর তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার গুণও যে নজর কেড়েছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন ইরফান পাঠান।
