Published on
:
2 min read
এই সময়, শিলিগুড়ি: মালবাজারে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া হস্তিশাবককে বাঁচাতে মাঝিদের তৎপরতা মন ছুঁয়েছিল সকলের। এ বার রেললাইনে ৭০টিরও বেশি হাতির প্রাণ বাঁচাতে সেই মানবিকতারই ছবি ধরা পড়ল নকশালবাড়িতে। সেখানে নদী ছিল না। ছিল রেল লাইন। লাইনের উপরে হাতির পাল, আর ছুটে আসছে ট্রেন। আর সেই বিপদের মুখে ক্রমাগত লাল কাপড় নেড়ে ট্রেনচালকদের সতর্ক করে নজির গড়লেন কার্শিয়াং বন বিভাগের কর্মী আকাশ কেরকেট্টা। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি এবং তৎপরতায় রক্ষা পেল হাতির পাল। শনিবার বিকেলে বাগডোগরা-নকশালবাড়ি রেলপথের এই ঘটনা সবার মন জয় করে নিয়েছে।
শনিবার নকশালবাড়ির টুকরিয়াঝাড় এলাকার জঙ্গল থেকে বাগডোগরার জঙ্গলের দিকে যাচ্ছিল হাতির দলটি। সেই যাত্রাপথেই পড়ে কিরণচন্দ্র চা-বাগান সংলগ্ন রেললাইন। একসঙ্গে ৭০টিরও বেশি হাতি রেললাইন পারাপার করছিল। তারই মধ্যে ওই রেলপথ দিয়ে এগিয়ে আসছিল সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেস। পরিস্থিতির দেখে দ্রুত লাল কাপড় জোগাড় করেন বনকর্মী আকাশ। এরপর কাপড় নেড়ে ক্রমাগত ট্রেনচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। বনকর্মীর লাল কাপড় নাড়া দেখতে পেয়ে ট্রেন থামিয়ে দেন চালকেরা। নিরাপদেই রেললাইন পার হয়ে যায় হাতির পাল। এরপর জাতীয় সড়কও নিরাপদে পার করে বাগডোগরার জঙ্গলে ঢুকে যায়।
বন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, 'উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি ও টুকরিয়াঝাড় সংলগ্ন বনাঞ্চল হাতিদের পরিচিত যাতায়াতের পথ। খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাতায়াত করে হাতির দল। সেই পথে রেললাইন, জাতীয় সড়ক ও চা-বাগান থাকায় প্রায়ই ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে বনকর্মীরা সবসময়ে সজাগ থাকেন।'
লোকো পাইলটদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল এক মা হাতি ও তার শাবক। শনিবার রাত ৮ টা ৫০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ডুয়ার্স রুটের রাজাভাতখাওয়া ও আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশনের মাঝখানে দমনপুর এলাকায়। সে সময়ে দ্রুত গতিতে আপ সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেস নিয়ে ছুটছিলেন লোকো পাইলট অরিন্দম ঘোষ ও ধ্রুবজ্যোতি সরকার। রেল ট্র্যাকের উপর ওই মা হাতি ও তার শাবকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই ট্রেনটির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁরা। নিরাপদেই লাইন অতিক্রম করে হাতি ও শাবকটি।
