চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ, পাঁচলাইশ ও খুলশী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম ওরফে ‘বার্মা সাইফুল’ ও তার ভাইদের গড়া ক্যাডার বাহিনী। শিল্পপণ্য আটকে ডকুমেন্টস যাচাইয়ের নামে চাঁদাবাজি, নির্মাণাধীন ভবনে ইট-রড ও বালির ওপর নির্দিষ্ট হারে চাঁদা ধার্য করা এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ বাসিন্দারা।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বায়েজিদ এলাকায় ব্যবসায়ীদের কারখানার ফেব্রিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য আটকে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে গাড়ি থামায় বার্মা সাইফুলের লোকজন। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে পণ্য আটকে রাখা কিংবা সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। কেবল ব্যবসায়ীরাই নন, হিলভিউ আবাসিক এলাকায় রঙের কাজ করতে গিয়ে এক শ্রমিক চাঁদাবাজদের হাতে মারধরের শিকার হন এবং তার মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই তিন এলাকায় জায়গা দখল, মাদক ব্যবসা, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাইফুলের পাশাপাশি তার অন্য দুই ভাইয়েরও নিজস্ব গুণ্ডা বাহিনী রয়েছে।
এলাকায় যে কোনো নির্মাণকাজে এই সন্ত্রাসী বাহিনী চাঁদার নির্দিষ্ট হার বসিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রতি ইটে ৫০ পয়সা, প্রতি টন রডে এক হাজার এবং প্রতি গাড়ি বালির জন্য ৫০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। হিলভিউ আবাসিকে প্রবেশের মুখে একটি নির্মাণাধীন ভবন দখল করে রীতিমতো অফিস বানিয়ে সেখান থেকেই পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এই চক্রটি। প্রকাশ্যে চাপাতি, কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সবুজ, সাইফুল ও ফাহিম নামের এই তিন ভাই বায়েজিদ বোস্তামী থানার বার্মা
কলোনির নুরুল আমিন কসাইয়ের ছেলে। তাদের মধ্যে সবুজ পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাইফুল নগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তাদের অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজি আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইফুলের বিরুদ্ধে খুনসহ প্রায় ৩৮টি এবং তার ভাই সবুজের বিরুদ্ধে ২৫টি মামলা রয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও অপরাধজগতে সক্রিয় হয়।
এহেন নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) দ্বারস্থ হন। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, দুষ্কৃতিকারীদের দৌরাত্ম্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বায়েজিদ থানার ওসি ইকতিয়ার উদ্দিন দাবি করেন, এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচলাইশ থানার নবনিযুক্ত ওসি মোহাম্মদ মোজাম্মেলও বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
