কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে মাতামুহুরীজুড়ে চলছে মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে রং করা, চোখ আঁকা ও সাজসজ্জার কাজ। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য প্রতিমা। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা।
প্রতিমাশিল্পী সুমন পাল বলেন, আর এক-দুই দিনের মধ্যেই রং-তুলির কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। প্রতিমাগুলো যেন নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা তার।
তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, মাটি, বাঁশ, খড়, রং ও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ভক্ত ও ক্রেতারা প্রতিমার দাম কম বলছেন। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে প্রতিমা বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে এবার খুব একটা লাভ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই নয়, স্থানীয় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপে চলছে বর্ণিল প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ।
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী মিলিয়ে এবার মোট ৪৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মাতামুহুরী উপজেলায় রয়েছে চারটি মণ্ডপ।
তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজাকে সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত করতে চান তারা। পূজার আনন্দ যেন কারও জন্য অস্বস্তির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অশুভ শক্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
