শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় মারজিয়া খন্দকার রিমি ও সুজন মিয়াকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত রবিবার রিমি ও সুজনের দুই দিন এবং আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত। দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল।
আবেদনে বলা হয়, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্যগুলো যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আরো গভীর ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে আসামিদের পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধী করা হয়। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ। এর জেরে উভয়পক্ষের বাগবিতণ্ডার মধ্যে আয়াসসহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি দিতে দেখা যায়; তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন।
এ সময় ওই নারী বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশি বাধার মুখে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক শনিবার এ মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
