জালালাবাদ রিপোর্ট: রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে অবশেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, তাঁর নেওয়া পদক্ষেপের কারণে যেন সরকার বা দল কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেজন্যই তিনি স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই আবেদন সদয়ভাবে গ্রহণ করেছেন।
এরআগে গত শনিবার বিকেলে ঢাকা-৬ আসনের আওতাধীন গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানে তাঁর গাড়ি থেকে নেমে হাতে পিস্তল উঁচিয়ে ‘এই ধর ধর ধর…’ বলে চিৎকার করার এবং তাঁর সহযোগীদের মারমুখী আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, যা সরকারের উচ্চপর্যায়েও অস্বস্তির সৃষ্টি করে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাকের বক্তব্য: অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে বা কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তবে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি. তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল করিনি। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আত্মরক্ষার্থে অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য আমি আমার বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলাম, পরে তা আর দৃশ্যমান ছিল না।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছি. তিনি আমাকে নিজ এলাকায় মনোযোগ দিতে বলেছেন. এখন থেকে মন্ত্রী বা এমপি হিসেবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আমার এই লড়াই শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে অব্যাহত থাকবে।
সরকারের কঠোর বার্তা: দলীয় ও দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান এবং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। সরকারের দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযান এবং জনসেবার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ইশরাকের এই অপেশাদার আচরণকে কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। এর আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদ ছাড়তে হয়েছিল।
ইশরাক হোসেন চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও তিনি ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার মাদক নির্মূল, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে কাজ করে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
