অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, শনিবার দুপুরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের পক্ষে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার শনিবার পর্যন্ত সময় চেয়েছে এবং তাঁরা আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করা হবে অথবা তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।
সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বৈঠকের পর ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ কর্মকর্তাকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ ১৮টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে এবং এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখে।
পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সিজেপি একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে আন্দোলনের সময় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে।
দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। কলকাতায় বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠন ও সিজেপি সমর্থকদের মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও অমৃতসরেও হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং কোথাও কোথাও শ্রেণিকক্ষ বর্জন কর্মসূচি পালন করা হয়।
রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রীয় সরকার অতিরিক্ত ১০টি সিআরপিএফ কোম্পানি দিল্লিতে মোতায়েন করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানীতে প্রায় ১৫০টি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কোম্পানি দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে ২৬ দিনের অনশন শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে অনশন ভেঙেছেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।
ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে একটি কঠোর খসড়া বিল অনুমোদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে অপরাধীদের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সংঘবদ্ধ চক্রের ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
