কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বাংলাদেশের তরুণ শাহিদুজ্জামান শাহিদ। ‘অ্যাফপাইলট’ নামের সফটওয়্যারটির মাধ্যমে নানা ধরনের উদ্যোক্তার জন্য মাইলফলক থেকে দেড় লাখ ডলার মূল্যের কারিগরি সহায়তা পেয়েছেন তিনি। তরুণদের শেখানোর জন্য চালু করেছেন অ্যাফপাইলট একাডেমিও।
বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে চলছে নানা গবেষণা, তখন এ ধারায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের তরুণরাও। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নানা ধরনের এআই টুল তৈরি হচ্ছে, আর সেসব টুল মানুষের নানা ধরনের কাজ সহজ করে দিচ্ছে। এমন কাজের নানা টুল বাংলাদেশেও তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে শাহিদুজ্জামান শাহিদ একটি এআই টুল বা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছেন, যার নাম ‘অ্যাফপাইলট’। বর্তমানে দেশে যেসব কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন খাতেও রয়েছে অসংখ্য কাজের সুযোগ। এসব দেশের বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা সহজে ইন্টারনেটের সহায়তায় কাজ এগিয়ে নিতে চান এবং বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত হতে চান।
এমনই এক তরুণ রংপুরের শাহিদুজ্জামান শাহিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সময় থেকেই দেশি এই তরুণ এমন কিছু তৈরির কথা ভাবতে থাকেন, যা দেশে ও দেশের বাইরে যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। এমন একটি সেবা তৈরির লক্ষ্য ছিল, যাতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যায় এবং দেশের বাইরের ব্যবহারকারীরাও সেবা পেতে পারেন।
২০২২ সালে ফ্রিল্যান্সিং জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অন্যদের সহায়তা করার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে আরও কাজ করেন এবং গড়ে তোলেন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান। শুরুতে এককভাবে কাজ করলেও ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করেন আরও অনেককে। প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইনার, বিপণনকর্মী, বিষয়বস্তু লেখকসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কাজ করছেন।
শাহিদুজ্জামানের অ্যাফপাইলট মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে। এ কাজে সাধারণত পণ্য বিপণনের জন্য লেখালেখির প্রয়োজন হয় বেশি। তবে সব কাজ নিজে করতে গিয়ে একসময় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। নিজের কাজ সহজ করতে নিজেই বিভিন্ন সমাধান তৈরি করেন।
মার্কেটপ্লেসের সহায়তা ও নতুন কার্যক্রম
নিজের অভিজ্ঞতাগুলো বিনা মূল্যে ইউটিউবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শাহিদ। অ্যাফপাইলটের গল্পও তুলে ধরেছেন তিনি। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রায় ৫০ হাজার সক্রিয় সদস্য। নতুন যাঁরা এ ধরনের কাজ করতে চান বা বিভিন্ন প্রয়োজনে শিখতে চান, তাঁদের জন্য গ্রুপের পাশাপাশি (https://affpilot.com/success-story) পেজের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন শাহিদ।
তিনি জানান, অনেকেই এসব কাজ করতে চান এবং সফলও হতে চান। কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না কিংবা নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পান না। তাঁরা গ্রুপে থাকা অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সফল হওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়মিত ভাগ করে নেন।
আছে অ্যাফপাইলট একাডেমি
নিজের সফলতার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং ও ব্লগ তৈরির পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ তৈরি করেছেন শাহিদুজ্জামান শাহিদ। তাঁর তৈরি ভিডিওগুলো অ্যাফপাইলটের ইউটিউব চ্যানেলে (https://youtube.com/@affpilotas) পাওয়া যাবে।
এ ধরনের সরাসরি অনলাইন আয়োজন থেকে অনেকেই উপকৃত হন। আরও বিস্তারিত সহায়তার প্রত্যাশায় অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁদের শেখানোর কথা চিন্তা করেই ‘অ্যাফপাইলট একাডেমি’ (https://affpilot.academy) শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শাহিদুজ্জামান শাহিদ বলেন, “মূলত সবাইকে সহজে শেখানোর বিষয়টি চিন্তা করেই এই একাডেমি শুরু করেছি।”
