১৬ বছরের কম বয়সীদের ঠেকাতে পারছে না ফেসবুক-টিকটক, মামলার পথে অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুরোপুরি সফল হচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে এই বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, একই বয়সসীমা নির্ধারণ করে আইন করার পরিকল্পনা করছে নরওয়ে। দেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কিছু অনলাইন গেম ও বার্তা আদান-প্রদানের সেবাকেও বিধিনিষেধের আওতায় আনতে চায়।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস ২০ অক্টোবর জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বয়স যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এই নিয়মে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট খোলা ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৯২ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা করা হতে পারে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা তদন্ত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ৩১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের তিন মাস পরও দেশটির ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ৮০ শতাংশের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছিল। দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
তবে সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞা মানতে ব্যর্থ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ১২ আগস্ট জানিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের বলে ধারণা করা হয়েছে, এমন ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ বন্ধ করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বয়স যাচাই ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়েও ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করতে যাচ্ছে। রয়টার্সের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
নরওয়ের প্রস্তাবিত আইনে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও রোবলক্সের মতো প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সরকারের ভাষ্য, শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন ফিচার, বেআইনি বিজ্ঞাপন এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থাকবে। তবে সব অনলাইন গেম বা বার্তা আদান-প্রদানের সেবা নিষিদ্ধ করা হবে না। যেসব সেবাকে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হবে, সেগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। নরওয়েতে আইনটি এখনো কার্যকর হয়নি।
শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, আর নরওয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব উদ্যোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাই এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার দায়িত্ব আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
