নয়া দিল্লি, ১২ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে প্রতিবাদের ঝাঁঝ আরও বাড়ছে। এরই মধ্যে আজ সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডি’ জোট। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী জুড়ে আঁটসাঁট নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, দিল্লি জুড়ে ৩০,০০০-এরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এআইসিসি দপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
বিরোধীদের নিশানা করে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তাঁদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, কিন্তু তাঁরা যাবেন না, কথা বলবেন না। আলোচনায় অংশ নেবেন না। এখন তাঁরা সুপ্রিম কোর্টকেও ছাড়বেন না? সেখানেও বিক্ষোভ? এর মানে কী? ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একদিকে তাঁরা বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ভয় পেয়েছে, তবে কি এবার সুপ্রিম কোর্টকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে? এই দেশে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই।’
অন্যদিকে, সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেসের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিপুল পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই ছবি দেখা যাচ্ছে মান্ডি হাউস চত্বরেও, যা দিল্লির প্রধান সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলা কেন্দ্র। এখানে এনএসডি, ত্রিবেণী কলা সঙ্গমের মতো একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয় মান্ডি হাউস মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি এবং এক্সিট গেট। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘রাহুল গান্ধী এর আগে একটি ‘লং মার্চ’ করেছিলেন। তার ফল কী হয়েছিল? দেশে কী পরিবর্তন এসেছিল? তাঁদের বিক্ষোভ করতে দিন, কে আটকাচ্ছে?’
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজধানীর সীমান্তে, রেল স্টেশনগুলিতে এবং বাস টার্মিনালেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গেস্ট হাউস ও হোটেলগুলিতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে কোনো গ্রুপের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কড়া নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ চলছে।
