পোশাকের সঙ্গে ব্যাগ বাছাইয়ও ভাবনার বিষয়। কারণ অফিসে যাওয়ার ব্যাগ আর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ব্যাগ কখনও এক হয় না।
আবার বিয়ের দাওয়াতে প্রয়োজনীয় জিনিস বহনের ব্যাগও হতে হবে একটু আলাদা।
কখনও বড় ব্যাগে দিনের প্রয়োজনীয় সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া যায়, কখনও ছোট ব্যাগই পুরো সাজের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
সারাদিনের কাজে টোট ব্যাগ
দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটাতে হলে প্রশস্ত টোট ব্যাগ বেশ কাজে আসে। বাজার করা, কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার জন্য এ ধরনের ব্যাগ সুবিধাজনক।
“সাধারণত এ ব্যগের ভেতরে জায়গা বেশি থাকে এবং মুখ খোলা বা চেইন বা মেটালযুক্ত বন্ধনী থাকায় জিনিস বের করাও সহজ”, বলেন অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অহং’–এর প্রধান ও ব্যাগ ডিজাইনার নিশাত ফেরদৌস।
তবে ব্যাগ বড় হলেই তাতে সবকিছু ভর্তি করে নেওয়া উচিত হবে না বলেও জানান তিনি। কারণ অতিরিক্ত ভার বহনে কাঁধে অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক বিষয়।
ব্যাগের ভেতরে ছোট থলি বা আলাদা খোপ থাকলে চাবি, মানিব্যাগ ও প্রসাধনীর মতো জিনিস গুছিয়ে রাখা যায়। কাপড়ের টোট ব্যাগ প্রতিদিনের ব্যবহারে হালকা ও সহজে বহনযোগ্য, আর চামড়া বা চামড়ার বিকল্প উপকরণের টোট ব্যাগ তুলনামূলক পরিপাটি দেখায়।
কামিজ, কুর্তি, জিনস বা সাধারণ দিনের পোশাকের সঙ্গে টোট ব্যাগ মানিয়ে যায়। নিরপেক্ষ রংয়ের ব্যাগও বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা সহজ। আবার রঙিন বা নকশা করা টোট ব্যাগ সাধারণ পোশাকে আলাদা সৌন্দর্য মাত্রা যোগ করতে পারে।
অফিস ও আনুষ্ঠানিক কাজে স্যাচেল
অফিস, মিটিং, সাক্ষাৎকার বা আনুষ্ঠানিক কাজে এমন ব্যাগ ভালো। কারণ এ ব্যাগের গঠন পরিপাটি এবং প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার ব্যবস্থা আছে।
স্যাচেল ব্যাগ সাধারণত নির্দিষ্ট আকৃতির, অনেক ক্ষেত্রে হাতল ও লম্বা কাঁধের ফিতা দুটোই থাকে। ফলে হাতে কিংবা কাঁধে বহন করা যায় বলেন এই ব্যাগ নকশাবিদ।
তবে কাগজপত্র, ছোট নোটবই, মানিব্যাগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার জন্য ভেতরে খোপ আছে কি-না, কেনার সময় দেখে নেওয়া উচিত।
এছাড়াও ব্যাগের মাপও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ব্যাগে বড় নথি রাখতে সমস্যা হতে পারে, আবার প্রয়োজনের তুলনায় বড় ব্যাগ বহন করাও অসুবিধাজনক।
কালো, বাদামি, ধূসর বা বেইজ রংয়ের স্যাচেল, আনুষ্ঠানিক পোশাকের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। শার্ট, ব্লেজার, ফরমাল কামিজ বা পরিপাটি কুর্তির সঙ্গে এটি ব্যবহার করা যায়।
“আবার অফিসের পোশাকের সঙ্গে ব্যাগের রং মিলানো বাধ্যতামূলক ভাবে না করে বরং জুতা, বেল্ট বা অন্য কোনও অনুষঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলেই সাজে ভারসাম্য আসে”, বলেন এই ব্যাগ রিশারদ।
ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটায় ক্রসবডি
ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা বা ভিড়ের মধ্যে চলাফেরার সময় ক্রসবডি ব্যাগ বেশ সুবিধাজনক। লম্বা ফিতা শরীরের আড়াআড়ি পরা যায় বলে ব্যাগটি তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে এবং দুই হাত ব্যবহার করাও সহজ হয়।
তাই হাঁটাহাঁটি, গণপরিবহনে ওঠানামা বা ভ্রমণের সময় এ সুবিধা কাজে লাগে।
তবে ব্যাগের মাপ এমন হওয়া দরকার, যাতে প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়, আবার অকারণে ভারীও না হয়। ফোন, টাকা, পরিচয়পত্র, চাবি ও ছোট পানির বোতল সঙ্গে নিতে হলে ব্যাগের ভেতরের জায়গা দেখে নিতে হবে।
আবার ভিড়ের জায়গায় ব্যাগ শরীরের সামনে রাখা, বন্ধনী ও জিপার ঠিকমতো আটকানো আছে কি-না খেয়াল করা জরুরি।
সাধারণ দিনের পোশাক, জিনস, কুর্তি বা আরামদায়ক কামিজের সঙ্গে ক্রসবডি মানায়। ছোট ও সরল নকশার ব্যাগ দিনের সাজে ব্যবহার করা যায়, আবার ধাতব বন্ধনী বা বিশেষ নকশার ব্যাগ সন্ধ্যার বাইরে যাওয়ার সাজেও মানানসই।
শাড়ি কিংবা ক্যাজুয়াল সাজে শোল্ডার ব্যাগ
কাঁধে ঝুলিয়ে বহন করা শোল্ডার ব্যাগ দিনভর ব্যবহার ও সাজ দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এ ব্যাগের নকশা ছোট, মাঝারি কিংবা বড় হতে পারে। তাই কোথায় যাওয়া হচ্ছে এবং কতটা জিনিস প্রয়োজন, তা বুঝেই ব্যাগ বেছে নেওয়া প্রয়োজন।
বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, দুপুরে বাইরে খাওয়া, কেনাকাটা বা স্বল্প সময়ের কাজে মাঝারি আকারের শোল্ডার ব্যাগ ব্যবহার করা যায়।
অন্যদিকে শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তি বা পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গেও এর নকশা মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। নরম আকৃতির ব্যাগ সাধারণ পোশাকে সাবলীল ভাব আনে, আর শক্ত গড়নের ব্যাগ সাজকে করে পরিপাটি।
তবে দীর্ঘ সময় এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহন করলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ব্যাগের ওজন কম রাখা এবং প্রয়োজন হলে কাঁধ বদলে নিতে হবে।
ব্যাগের ফিতা যেন কাঁধে ঠিকমতো বসে, সেটিও খেয়ালে রাখা দরকার।
দাওয়াত ও উৎসবে ক্লাচ
ঈদ, বিয়ে, পূজা, জন্মদিন, সন্ধ্যার দাওয়াত বা বিশেষ অনুষ্ঠানে ছোট ক্লাচ ব্যাগ সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে। হাতে ধরা যায় এমন এই ব্যাগে সাধারণত ফোন, কিছু টাকা, কার্ড, লিপস্টিক ও ছোট প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়।
“আকারে ছোট হওয়ায় এটি বড় ব্যাগের বিকল্প নয় বরং অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় অল্প কিছু জিনিস বহনের উপযোগী”, বলেন ব্যাগ ডিজাইনার নিশাত ফেরদৌস।
শাড়ি বা জমকালো পোশাকের সঙ্গে ক্লাচ বেছে নেওয়ার সময় পোশাকের কাজ ও গয়নার ধরন বিবেচনা করার পরামর্শও দেন তিনি।
সোনালি, রুপালি, কালো বা পোশাকের সঙ্গে মানানসই রংয়ের ক্লাচ ব্যবহার করা যায়। সূচিকর্ম, পুঁতি বা ধাতব নকশার ব্যাগ সহজেই উৎসবের সাজের মধ্যমনি হতে পারে।
তবে পোশাক ও গয়না দুটোই ভারী হলে তুলনামূলক সরল ক্লাচ বেছে নিলে সাজে ভারসাম্য থাকবে।
কেনার আগে ব্যাগের বন্ধনী ভালোভাবে আটকায় কি-না এবং ফোনটি ভেতরে রাখা যায় কি-না দেখে নেওয়া ব্যাগের সৌন্দর্য দেখার মতই জরুরি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ হাতে ধরে রাখতে অসুবিধা হলে ফিতাযুক্ত ক্লাচ বেছে নেওয়া সহজ সমাধান হতে পারে।
পড়াশোনা ও ভ্রমণে ব্যাকপ্যাক
পড়াশোনা, দীর্ঘ পথ যাতায়াত বা ভ্রমণের জন্য ব্যাকপ্যাক ব্যবহারিক পছন্দ হতে পারে। দুই কাঁধে ফিতা থাকায় ওজন দুই পাশে ভাগ করে বহন করা যায় এ ব্যাগ। বই, খাতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পানির বোতল বা ভ্রমণের ছোটখাটো সামগ্রী রাখার জন্য এটি সুবিধাজনক।
ব্যাকপ্যাক কেনার সময় শুধু জায়গার পরিমাণ নয়, পিঠে বসার ধরন ও ফিতার আরামও বিবেচনাও একই ভাবে প্রয়োজনীয়।
ব্যাগের ভেতরে জিনিস আলাদা রাখার খোপ থাকলে প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। ভারী বই বা যন্ত্রপাতি বহন করলে ব্যাগের ওজন শরীরের তুলনায় অতিরিক্ত হচ্ছে কি-না সেটি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
ক্যাজুয়াল পোশাক, কুর্তি বা ভ্রমণের আরামদায়ক পোশাকের সঙ্গে ব্যাকপ্যাক মানায়। সাধারণ কাপড়ের ব্যাকপ্যাক হালকা কাজে উপযোগী, আর পিঠে আরামদায়ক গড়ন ও মজবুত ফিতাযুক্ত ব্যাগ দীর্ঘ যাতায়াতে বেশি সুবিধা দিতে পারে।
ব্যাগ বাছাইয়ে আরও কিছু বিষয়
ব্যাগের ধরন জানা থাকলেও কেনার আগে ব্যাগের সেলাই, জিপার, হাতল ও ফিতা মজবুত কি-না দেখে নিতে হবে।
এছাড়া উপকরণ পরিষ্কার করা সহজ কি-না এবং বৃষ্টিতে ভিজলে কীভাবে যত্ন নিতে হবে, তা জেনে নেওয়া ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক হবে।
আবার ব্যাগের রংয়ের ক্ষেত্রেও একটু পরিকল্পনা করা যায়। কালো, বাদামি, বেইজ বা ধূসর রংয়ের ব্যাগ অনেক পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
তবে পোশাকের সঙ্গে একই রংয়ের ব্যাগ পরতেই হবে, এমন নয়। বিপরীত রংয়ের ব্যাগও সাধারণ সাজে বৈচিত্র্য আনতে পারে। আবার নকশা করা পোশাকের সঙ্গে একরঙা ব্যাগ পরলে পুরো সাজে ভারসাম্য থাকে।
ব্যাগের ভেতর অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যাগ খালি করে পরিষ্কার করলে ব্যাগ দীর্ঘদিন ভালো থাকতে পারে।
প্রসাধনী বা পানির বোতল রাখলে সেগুলো আলাদা ছোট থলিতে রাখা ভালো, যাতে কোনও কিছু ছড়িয়ে পড়লে ব্যাগের ভেতর নোংরা না হয়।
