গ্রেফতারি এড়াতে বার বার ঠিকানা বদল করছিলেন ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ এবং নীরজ ফরিদপুরিয়া। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গত ২২ অক্টোবর দু’জনেই গ্রেফতার হন আমেরিকায়। গ্রেফতারি এড়াতে কী কী কৌশল নিয়েছিলেন এই দুই গ্যাংস্টার, তার তথ্য প্রকাশ করেছে আমেরিকার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
সূত্রের খবর, দিল্লি এবং হরিয়ানায় এই দুই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, তোলাবাজির বহু মামলা রয়েছে। দুই রাজ্যের বিভিন্ন থানায় ‘ওয়ান্টেড’-এর তালিকায় রয়েছেন এই দু’জন। ঘটনাচক্রে, দু’জনই আবার গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বী। দু’জনেই নাম এবং পরিচয় গোপন করে ভারত থেকে পালান। দু’জনেই ভুয়ো পাসপোর্ট বানান। হিমাংশু ভাউ নাম বদলে রাখেন হিমাংশু সিগরোহা এবং নীরজ ফরিদপুরিয়া নাম বদলে রাখেন নীরজ কৌশিক।
দুই গ্যাংস্টার দুবাই হয়ে কানাডা, সেখান থেকে পর্তুগাল যান। তার পর পর্তুগাল থেকে আমেরিকা। শেষে আমেরিকাতেই আত্মগোপন করে থাকছিলেন দু’জনে। সেখান থেকে দিল্লি, হরিয়ানা-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে তাঁদের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিলেন। দুই গ্যাংস্টারের হদিস পাওয়ার পরই তাঁদের গ্রেফতারির প্রস্তুতি নেয় হরিয়ানা পুলিশ। আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। ইন্টারপোলেরও সাহায্য নেওয়া হয়। দু’জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়। দিল্লি এবং হরিয়ানা পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাতেও রাখা হয় এই দু’জনের নাম। দীর্ঘ সময় ধরেই হিমাংশু এবং নীরজের খোঁজ চালাচ্ছিল আমেরিকার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ২২ অক্টোবর দু’জনকেই গ্রেফতার করে তারা। বর্তমানে দুই গ্যাংস্টারকে নেভাদার হেন্ডারসন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।
হিমাংশু ভাউয়ের আসল নাম হিমাংশু রিটোলিয়া। হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা। তাঁর অপরাধের জাল দিল্লি-এনসিআর, হরিয়ানা এবং পঞ্জাবে বিস্তৃত। আমেরিকা থেকে এই জায়গাগুলিতে অপরাধের চক্র চালাতেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই অপরাধ জগতে প্রবেশ। ২০২০ সালে জুভেনাইল সংশোধনাগার থেকে কয়েক জন বন্দিকে নিয়ে পালিয়েছিলেন তিনি। তার পর খুন, তোলাবাজি, অপহরণের মতো বহু মামলায় তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের হয়। তাঁর সন্ধানে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করে হরিয়ানা পুলিশ। তার পরই দেশ ছাড়েন তিনি। নীরজ বওয়ানা গ্যাংয়ের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন হিমাংশু।
হরিয়ানার পলওয়ালের বাসিন্দা গ্যাংস্টার নীরজ। তাঁর নামে ২৫টি মামলা রয়েছে ভারতে। ২০২১ সালে নীরজকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। একটি খুনের মামলায় ২০১৫ সালে যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। ওই বছরেই ফরিদাবাদে কংগ্রেসের মুখপাত্র বিকাশ চৌধরীকে খুনের অভিযোগ ওঠে নীরজের বিরুদ্ধে। তার পর তিনি দেশ ছাড়েন।
সূত্রের খবর, দুই গ্যাংস্টারকেই ভারতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
