Published on
:
2 min read
এই সময়, বোলপুর: ঘটনা ১১ বছর আগের। অ্যাম্বুল্যান্স থেকে গুলি চালিয়ে বোলপুরের নিমতলায় খুন করা হয় মোটরবাইকে থাকা তৃণমূলকর্মী তিন যুবককে। সেই ঘটনায় মঙ্গলবার বোলপুর মহকুমা আদালত নতুন ভাবে তদন্ত করে পুলিশকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের প্রথম চার্জশিটে অভিযুক্তদের অন্যতম হিসেবে জেলার তৃণমূল নেতা কাজল শেখের নাম থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর নাম না–থাকায় প্রশ্ন তুলে আদালতে আবেদন জানানো হয় নিহতদের এক জন, কুরবান শেখের পরিবারের তরফে।
সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এ দিন আদালত নতুন ভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। এ বছর বিধানসভা ভোটে হাসন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জোড়াফুল প্রতীকে জিতে কাজল বিধায়ক হন। তবে এখন তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। নিমতলায় তিন জনকে খুনের ঘটনায় পুলিশকে আদালতের নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া নিয়ে কাজল অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশ সূত্রের খবর, ২০১৫–র ২৮ সেপ্টেম্বর কুরবান শেখ–সহ নানুরের যে তিন তৃণমূলকর্মীকে গুলি করে খুন করা হয়, তাঁরা সবাই ছিলেন নানুরের তদানীন্তন বিধায়ক গদাধর হাজরার অনুগামী। বীরভূম জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে গদাধর ছিলেন দলের তৎকালীন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল শিবিরের। যাঁর সঙ্গে কাজল শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ। সেই সময়ে মাঝেমধ্যেই কাজল ও গদাধরের অনুগামীদের মধ্যে চলত গুলি ও বোমার লড়াই। ঘটনার দিন বোলপুরের দিকে মোটরবাইকে করে আসছিলেন গদাধরের তিন অনুগামী। সেই সময়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে আসা দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়ে ওই তিন জনকে খুন করে চম্পট দেয়।
নিহতদের অন্যতম কুরবান শেখের বাবা জিলাই শেখ বোলপুর থানায় যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তাতে কাজল শেখ–সহ ২২ জনের নাম ছিল৷ তদন্ত করে পুলিশ ২২ জনের নামেই চার্জশিট দেয়। তবে ওই চার্জশিট নিয়ে আদালতে কাজল আপত্তি জানান। তার পরেই, দ্বিতীয় চার্জশিট থেকে পুলিশ বাদ দেয় কাজলের নাম। যা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারী জিলাই শেখের আইনজীবী। আদালত ফের পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়৷ সেই তদন্তের ভিত্তিতে ২০২৫–এর ৪ এপ্রিল পুলিশ জমা দেয় তৃতীয় চার্জশিট, যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে কাজল শেখের নাম না–রেখে তাঁকে রাখা হয় সন্দেভাজনদের তালিকায়। যা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তোলা হয় জিলাই শেখের তরফে। কাজল শেখ সেই সময়ে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি। কাজলকে প্রভাবশালী তকমা দিয়ে তৃতীয় চার্জশিট নিয়ে আদালতে অভিযোগকারী আপত্তি তোলেন।
অভিযোগকারীর আইনজীবী প্রতাপ মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, ‘ঘটনার দিন কাজল শেখ নাকি বিধানসভা এলাকা ভিজি়ট করছিলেন। কিন্তু পুলিশি তদন্তে তার প্রমাণ মেলেনি। মামলায় ১ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে কাজলের নাম ছিল। অথচ তাঁর নামই দ্বিতীয় ও তৃতীয় চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।’ এ বছর মে মাসে রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পরে অগস্টে জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে কাজল শেখ ইস্তফা দিয়েছেন।
