কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমণি। তাঁর মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহারে নারীরা যেভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় নীরব না থেকে সোচ্চার হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি আয়োজনে গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পরীমণি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তিনি। আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকে। এই সমর্থন তাঁকে আরও সাহস জোগাচ্ছে বলেও জানান অভিনেত্রী।
পরীমণি বলেন, ‘সবাই যখন আমার সাহসকে সম্মান জানায়, তখন আরও সাহস পাই। মনে হয়, আমি সঠিক পথে আছি।’ নিজের জীবনের নানা ঝামেলা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আমার কপালে মনে হয় এটাই লেখা, সারা জীবন ঝামেলা হবে, ঝামেলা নিয়েই যাব। এটা আমি মেনে নিয়েছি। আমার ভালো লাগে, এনজয় করি।’
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের হয়রানির ঘটনা প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি তিনি। তবে পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বুঝতে পেরে প্রকাশ্যে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর প্রভাব ভুক্তভোগীর জীবনে গুরুতর হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, ‘বিষয়টা অনেক সেনসিটিভ। আমার মতো মানুষ এটা গায়েই লাগানোর কথা না। প্রথম তিন-চার দিন তো পাত্তা দিইনি। যখন দেখলাম, এটা আর এভয়েড করতে পারছি না, তখন গিয়ে কথা বললাম।’ সাধারণ কোনো নারী এমন পরিস্থিতির শিকার হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হওয়া জরুরি।
প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি ভুয়া ও আপত্তিকর কনটেন্ট নারীদের জন্য গুরুতর হয়রানির কারণ হয়ে উঠতে পারে—পরীমণির বক্তব্যে সেই উদ্বেগই উঠে এসেছে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এনেছেন এই অভিনেত্রী।
এমএম/
