আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারে গঙ্গা নদীতে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১১ জন। মৃতদের মধ্যে বহু মহিলা ও শিশু রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের হাজিপুর জেলার রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের কাছে, রাঘোপুর থানা এলাকার গঙ্গায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা একটি ভোজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নৌকায় করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই গঙ্গার জলে নৌকাটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই নদীতে তলিয়ে যান একাধিক যাত্রী। আচমকা এই দুর্ঘটনায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে আটজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল। পরে বৈশালী জেলার জেলাশাসক বলেন, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে নৌকায় ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, সেই বিষয়ে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা এবং আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি রাঘোপুর দিয়ারা এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নদীতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন এবং আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি উদ্ধারকাজ দ্রুত করার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
https://x.com/yadavtejashwi/status/2110047293311418446
এই দুর্ঘটনা ফের একবার নদীপথে যাত্রী পরিবহণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিলেন কি না, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল কি না, কিংবা ঠিক কী কারণে নৌকাটি উল্টে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে দুর্ঘটনার সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজ, উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
