নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শ শোকজ) এবং প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্তের কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও সেবার সীমাবদ্ধতা নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন হুইপ দুলু। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালটি নামেমাত্র ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এর জনবল, ওষুধ ও খাদ্য বরাদ্দ এখনো ১০০ শয্যার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ প্রতিদিন এখানে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি প্রায় ৯০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ১০০ জনের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার দিয়ে বিশাল সংখ্যক রোগীর চাহিদা মেটানো অসম্ভব এবং এটি অত্যন্ত অমানবিক। অনেক রোগী সময়মতো খাবার না পাওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সংকট নিরসনে তিনি দ্রুত স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করার আশ্বাস দেন। বর্তমান সরকার একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সরকার উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষের শতভাগ চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অপরিচ্ছন্ন বাথরুম বা নোংরা পরিবেশ রোগীদের সুস্থতার পরিবর্তে নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালের বাথরুমসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হিসেব অনুযায়ী সকাল আটটার মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরিদর্শনের সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক চিকিৎসক ও কর্মীকে অনুপস্থিত পান এই সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সারজনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, রাষ্ট্রের অর্থে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ে গরিব রোগীদের সেবা না দেওয়া কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দায়িত্বে অবহেলাকারী চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সংঘটিত এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উদঘাটনকালে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের এই বহুমুখী সংকট দূর করে চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
