কালবেলা · সাধারণ
রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোর প্রতিবাদে উদীচীর সাংস্কৃতিক আয়োজন
১১/১০/২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোর ঘটনার প্রতিবাদে গান, নাটক, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘যে কবি জনতার’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পাদদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির সামনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
উদীচীর সহ-সভাপতি শিবানী ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সম্পাদক আজমীর তারেক চৌধুরীর সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বক্তব্য দেন উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম।
তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন কবি নন, তিনি বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, শিল্পবোধ ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সৃষ্টিকর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মানবিকতা, মুক্তবুদ্ধি ও সৌন্দর্যবোধে অনুপ্রাণিত করেছে। রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোর ঘটনা শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অসম্মানজনক এবং উদ্বেগজনক।’
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তার প্রতিকৃতিকে অসম্মান করার মধ্য দিয়ে যে বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতার প্রকাশ ঘটেছে, তার জবাব দিতে হবে যুক্তি, মনন, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে উদীচীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। নাটক বিভাগের শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘বিসর্জন’-এর একটি দৃশ্য মঞ্চস্থ করেন। এ ছাড়া শিখা সেনগুপ্তা, ইসরাত কাকলী, সৈয়দা রত্না ও মনীষা মজুমদার কবিতা আবৃত্তি করেন। নৃত্য পরিবেশন করেন সুজানা ও সুপা সাদিয়া।
‘যে কবি জনতার’ শীর্ষক এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানায় উদীচী। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে গান, নাটক, কবিতা ও নৃত্যকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তুলে ধরেন সংগঠনটির শিল্পীরা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗