Published on
:
2 min read
এই সময়: দিনদুয়েক আগেই বৃষ্টিতে ধুয়েছে মহানগর। কিন্তু তাতেও ছাড় পাওয়া গেল না। পুজোর মুখে খারাপ হতে শুরু করল কলকাতার বাতাস। শহরের কয়েকটি জায়গায় বাতাসের মানের গড় পরিমাপক অর্থাৎ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ১০০ ছুঁইছুঁই। হাওড়ার দাশনগরে একিউআই খুব খারাপ— ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাইরের কয়েকটি জেলাতেও ১০০ ছাড়িয়েছে। এর একটি কারণ, পুজোর মুখে রাস্তাঘাটে গাড়ির সংখ্যা আচমকা বেড়ে যাওয়া। তবে পরিবেশকর্মীরা বলছেন, পুলিশ কড়া হাতে যান নিয়ন্ত্রণ করলে একিউআই কমানো যাবে। না হলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে বাতাসে বিষের পরিমাণ আরও বাড়বে। এই অবস্থায় প্রতিমা ভাসানে বাজি ঠেকাতে না পারলে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে।
আবহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শীতকালে বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তর স্থিতিশীল হয়ে যায়। ফলে পিএম (পার্টিকুলেট ম্যাটার) ২.৫ এবং পিএম-১০-এর মতো সূক্ষ্ম দূষণকণা উপরের দিকে উঠতে পারে না। সেগুলি কার্যত বন্দি হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যে পারদ পতনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে কুয়াশা। এর ফলে বাতাসে দূষণকণাগুলি আরও বেশি সময় বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে আটকে থাকে। দূষণের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞেরা তাপমাত্রার পতন, কুয়াশা, যানবাহনের অতিরিক্ত ধোঁয়া এবং শীতকালে জ্বালানি পোড়ানোর প্রবণতাকেও দায়ী করছেন।
এ দিন, বিকেলের দিকে হাওড়ার দাশনগরের দু’টি জায়গায় একিউআই ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরিমাপক ব্যবস্থায় একটি জায়গায় একিউআই ছিল ৩১৪, অন্যটিতে ছিল ৩২০। কলকাতার উত্তরে লেকটাউনে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব লাগোয়া ইস্ট ক্যালকাটা গার্লস কলেজে এ দিন সন্ধ্যা ৬টায় একিউআই রেকর্ড হয়েছে ১৯০। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একিউআই ছিল ৯৩। কলকাতা লাগোয়া বানতলা এবং ব্যারাকপুরের একিউআই ছিল যথাক্রমে ৯৬ ও ১০৩। এই জায়গাগুলিতে ক্ষতিকর কণা পিএম-২.৫ এবং পিএম-১০— দু’টির মাত্রাই ছিল সহনশীল মাত্রার অনেক বেশি।
গত কয়েকদিন ধরে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তার ফলে দূষণের মাত্রা বাড়ছে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এর ফলে পুজোর মধ্যে সরাসরি জনস্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। বয়স্ক, শিশু এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের মধ্যে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, এই সময় রাস্তাঘাটে যান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আগুন জ্বালানো বন্ধ না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
