ছবির ক্যাপশন: .
সাদিয়া আফরিন
" তোমরা আল্লাহর দাসত্ব করো এবং তাগুতের গোলামী পরিহার করো " ( সূরা নাহল আয়াত ৩৬) দাওয়াত শব্দের অর্থ হলো আহবান করা বা ডাকা। ইসলামের দৃষ্টিতে দাওয়াত বলতে মানুষকে সকল প্রকার দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর দিকে আহবান করা। আল্লাহ্ তায়ালার আদেশ নিষেধ মেনে চলার সাথে সাথে আল্লাহ্ মানুষকে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অপর্ণ করেছেন। প্রশ্ন জাগতে পারে প্রতিনিধির কাজ কী? প্রতিনিধির কাজ হলো আল্লাহর বিধান মোতাবেক জীবন পরিচালনার পাশাপাশি অন্যকে আহবান করা। তবে আল্লাহ্ তায়ালা বাধ্য করেননি। হিদায়াত আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। মানুষের পদ প্রদর্শক নবী রাসূলগণ। তবে নবী রাসুলের আনীত হিদায়াত মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেওয়া খিলাফাতের দায়িত্ব। খিলাফাতের দায়িত্ব পালন করাই দাওয়াতের কাজ।
" দীনের মধ্যে কোনো প্রকার জোর জবরদস্তি নাই ভ্রান্ত পথ থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট করে দেওয়া আছে। অতএব যে তাগুতকে অস্বীকার করে আল্লাহর প্রতি ঈমানের ঘোষণা দেয় সে এমন এক মজবুত রশি আকঁড়ে ধরে যেটা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। (আল বাকারা আয়াত ২৫৬)
দাওয়াত প্রদানকারীকে বলা হয় দা'য়ী ইলাল্লাহ। নবী রাসুলগণ ছিলেন দা'য়ী ইলাল্লাহ।
"উঠো, সতর্ক করো এবং তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা দাও। (আল মুদ্দাসসির আয়াত ২-৩) আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, তোমরা যা জানো তা অপরকে জানিয়ে দাও, কুরআনের একটি আয়াত হলে ও। সর্বপ্রথম কাকে কীভাবে দাওয়াত দিতে হবে তা রাসুলের জীবনী থেকে দেখা যায়। রাসুল (স:) প্রথমে তার ঘনিষ্ঠ লোকদের দাওয়াত দিয়েছেন অর্থাৎ খাদিজা (রা:), আবু বকর (রা:), আলী (রা:), যায়েদ (রা:)। কুরআনে বলা হয়েছে, " তোমার নিকটজনদের সতর্ক ও সাবধান করো" (সূরা শুয়ারা আয়াত ২১৪) কাউকে আল্লাহর দিকে আহবান করা বা দাওয়াতের মূল ফ্যাক্টর দাওয়াতদানকারী নিজে। তার বাস্তব জীবন, তার আমল আখলাক, আচার আচরণ গোটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ই দাওয়াতের মূল ফ্যাক্টর। মানুষ দাওয়াত গ্রহণ করবে কী না করবে দাওয়াত দানকারীর বাস্তব জীবন ও চারিত্রের উপর। যেমন নিজে নামাজ না পড়ে আরেকজনকে যদি বলা হয় নামাজ পড়ো, আদৌ কী তা ফলপ্রসু হবে? রাসুল (স:) নবুয়াত লাভের পূর্বে ও তাঁর বাহ্যিক নিন্দনীয় চারিত্রিক দিক জাহেলী সমাজের কেউ বের করতে পারেনি।
" আল্লাহ্ বলেন, তার কথার চাইতে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে এবং ঘোষণা করে আমি একজন মুসলিম।"( সূরা হামীম আস -সাজদা আয়াত ৩৩)
দাওয়াতের গুরুত্ব পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে ব্যক্তি যেমন পরিবর্তন হয়, তেমনি নিজের আমল আখলাক বৃদ্ধি করা যায়, ফলে ব্যক্তি উন্নত হলে সমাজ উন্নত হয়, সমাজ উন্নত হলে রাষ্ট্র উন্নত হয়। এতে ইসলামীক রাষ্ট্র গঠিত ও ফলপ্রসূ হবে।
দাওয়াত মানে আহবান করা। মানুষকে দীনের পথে কীভাবে আহবান করতে হবে তা আল্লাহ্ তায়ালা ই বলে দিয়েছেন কুরআনে। "তোমার রবের দিকে দাওয়াত দাও হিকমত ও উওম উপদেশের মাধ্যমে তাদের সাথে বিতর্ক করো উত্তম পন্থায়। "( সূরা আন নাহল আয়াত ১২৫)
আয়াতটা বিশ্লেষণ করলে তিনটি পদ্ধতি বা কৌশলের কথা বলা হয়েছে, প্রথমে ব্যক্তিকে হিকমাহ অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ তার বুদ্ধিমত্তা, কর্মকৌশল, দক্ষতা আধুনিক উপকরণের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান করা। ইলম অর্জনের পাশাপাশি তা আমলে নেওয়া। অর্থাৎ তার ব্যক্তিজীবন, উত্তম আখলাক তা আমরা রাসুল (স:) জীবন অনুসরণ করতে পারি। " রাসূলুল্লাহর জীবনের মধ্যেই রয়েছে তোমাদের অনুসরণ অনুকরণযোগ্য উওম আদর্শ। "( সৃরা আহযাব আয়াত ২১)
দাওয়াতের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কথা হচ্ছে উওম উপদেশ। এক্ষেত্রে দাওয়াত দানকারী ব্যক্তি নিজের কল্যাণকামী, মেজাজের ভারসাম্য রক্ষা, রুক্ষ আচরণ না করার পাশাপাশি ভালো কাজে উৎসাহিত করতে হবে।
তৃতীয় কথা হলো বিতর্ক এড়িয়ে চলা, " আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পরিচয় হলো তারা অত্যন্ত নম্র ও বিনয়ীভাবে চলাফেরা করে, অজ্ঞ লোকেরা তাদের কটাক্ষ করে বিতর্কে জড়িয়ে ফেলতে চায় তাহলে তারা বিনয়ের সাথে সালাম করে দূরে সরে পড়ে। "(আল ফুরকান আয়াত ৬৩)। তবে বিতর্ক যদি একান্তই করতেই হয় তাহলে বির্তক করতে হবে উত্তম চরিএ দিয়ে। কারণ কুরআনে বলা হয়েছে "মন্দের প্রতিহত করো সর্বোত্তম ব্যবহার দিয়ে । ( সূরা মুমিনুন আয়াত ৯৬)
আল্লাহ্ তাওফীক দিন।
সাদিয়া আফরিন
ইডেন মহিলা কলেজ
