Published on
:
2 min read
ফিনানশিয়াল কনটেন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় চেনা মুখ হয়ে উঠেছিলেন ইউটিউবার ভি হরিশ। সম্প্রতি তাঁর আত্মঘাতী হওয়ার খবর সামনে আসে। তারপরেই হরিশের পরিবার অভিযোগ করেছিল, লাগাতার অনলাইন ট্রোলিং বা হেনস্থার ঘটনার মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হরিশ। তার সঙ্গে লাগাতার অপমানজনক পোস্ট এবং হুমকির জেরে হরিশ চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছিল তাঁর পরিবার। মৃত্যুর আগে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন হরিশ, সেখানেও এমন অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল তামিলনাড়ু পুলিশ। অবশেষে, ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার আর একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং একটি সংস্থার সিইও জেসন স্যামুয়েলকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই জেসনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছিল হরিশের পরিবার।
ভি হরিশ কে?
২৭ বছর বয়সি ভি হরিশ এক জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ‘Finance With Harish’ নামে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে তাঁর অ্যাকাউন্ট ছিল। সেখানে স্টক মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড থেকে শুরু করে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তৈরি ভিডিয়ো পোস্ট তৈরি করতেন তিনি। প্রায় ১২-১৩ লক্ষ ফলোয়ার ছিল তাঁর।
নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ামক সংস্থা থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হতে হয়। সম্প্রতি হরিশের আর্থিক পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা ও নথি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদূর জলঘোলা হয়েছিল। এর পরে তাঁর পুরোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। তারপরেই তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
কী ভাবে মৃত্যু হয় হরিশের?
পুলিশ সূত্রের খবর, ২০ অক্টোবর চেন্নাইয়ের কাছে একটি ভাড়াবাড়িতে হরিশকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিয়োয় হরিশ অনলাইনে ট্রোলিং, হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।
জেসন স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
হরিশের বাবা জে বিনায়াগম পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, জেসন স্যামুয়েল একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও ভিডিয়ো বার্তায় তাঁর ছেলেকে নিশানা করেছিলেন। সেখানে হরিশের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে হরিশের বাবার অভিযোগ। তাঁর আরও অভিযোগ, সবকিছু মিটমাট করার জন্য ৩ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অস্বীকার জেসনের:
হরিশের মৃত্যুর পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেসন স্যামুয়েল শোকপ্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার করে স্যামুয়েলের দাবি ছিল, তিনি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি। শুধুমাত্র হরিশের আর্থিক পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে কি না সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, হরিশের কাছে SEBI-র নির্দিষ্ট লাইসেন্স ছিল না। তিনি সেটা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।