আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে জোটের অংশীদার হিসেবে ১২৫টি আসনের দিকে নজর কংগ্রেসের। সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য, সোমবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রায় ১৭৫টি আসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস প্রায় ১০০টি 'ক্যাটাগরি এ', ৪০-৫০টি 'ক্যাটাগরি বি' এবং ২৫-৩৫টি 'ক্যাটাগরি সি' আসনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে।
চলতি সপ্তাহে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে আরও একবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কংগ্রেস সমাজবাদী পার্টির কাছে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০টি আসনের একটি তালিকা পেশ করতে পারে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যেই আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আগ্রহী কংগ্রেস।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি দলের প্রচার অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন। তবে সেবার কংগ্রেস এককভাবে লড়েছিল এবং মাত্র দু'টি আসনে জয়ী হয়েছিল।
কংগ্রেসের সম্ভাব্য আসনের তালিকা
এবার কংগ্রেস ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের তালিকা তৈরি করছে। দলের লক্ষ্য হল, প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অন্তত একটি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ার সময় কংগ্রেসের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৭টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৩৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভোট বেড়েছিল। ৪২টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এই ৮০টি আসনই দলের সম্ভাব্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, এই তালিকায় এমন কিছু আসন রয়েছে যেগুলোর সঙ্গে অজয় রাই, অজয় লাল্লু, সুপ্রিয়া শ্রিনেত এবং নাদিম জাভেদের মতো কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নাম জড়িত।
সূত্র মারফৎ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেস আমেঠি, রায়বেরেলি এবং সাহারানপুরের সেই আসনগুলোর জন্যও দাবি জানাতে চায়। এইসব আসনে বর্তমানে সমাজবাদী পার্টির বিধায়করা রয়েছেন। এছাড়া সমাজবাদী পার্টির দখলে থাকা আরও প্রায় এক ডজন আসনের দিকেও কংগ্রেস নজর রেখেছে।
বাস্তব চিত্র
আমেঠি এবং রায়বেরেলি আসন দু'টিকে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ লোকসভায় এই কেন্দ্রগুলো থেকে দলের ‘প্রথম পরিবার’-এর সদস্যরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনগুলোতে কংগ্রেসের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক।
আমেঠি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পাঁচটি বিধানসভা আসনের কোনওটিতেই ২০২২ সালে কংগ্রেস জয়ী হতে পারেনি। এর মধ্যে তিনটি আসনে বিজেপি, একটিতে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং একটিতে বিজেপি-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন।
একইভাবে, রায়বেরেলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পাঁচটি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০২২ সালে চারটি আসনে সমাজবাদী পার্টি এবং একটি আসনে বিজেপি জয়লাভ করে। কংগ্রেস কোনও আসনেই জিততে পারেনি।
সমাজবাদী পার্টি কী প্রস্তাব দেবে?
জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও, জানা গিয়েছে যে অখিলেশ যাদবের দল কংগ্রেসকে ৬০-৬৫টির বেশি আসন দিতে আগ্রহী নয়। আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে অখিলেশ যাদব বারবার ‘জয়ের সম্ভাবনা’-কে মূল মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরছেন। অখিলেশ যাদব ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের মোট ৪০৩টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৫০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, জোটের অংশ হিসেবে কংগ্রেসের অন্তত ১৫০টি আসন পাওয়া উচিত।
কংগ্রেস সম্প্রতি তাদের রাজ্য সংগঠনে রদবদল করেছে। যা সমাজবাদী পার্টি-র উদ্বেগের বিষয়গুলোর প্রতি তাদের নমনীয় মনোভাবেরই ইঙ্গিত। তারা আরাধনা মিশ্রকে প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেছেন এবং সাংসদ ইমরান মাসুদকে কার্যকরী সভাপতি করেছে।
তিনবারের বিধায়ক আরাধনা মিশ্রকে অজয় রাইয়ের জায়গায় আনা হয়েছে। কারণ অখিলেশ যাদবের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, লোকসভা সদস্য ইমরান মাসুদকে এই নির্বাচনী রাজ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মূলত প্রায় ১৮ শতাংশ মুসলিম ভোটারের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
